Press "Enter" to skip to content

সার্বিয়ায় নির্বাচনের আগে বেলগ্রেডে ছাত্র আন্দোলনের ডাকে দেড় লাখ মানুষের সমাবেশ

ছাত্র আন্দোলন

বেলগ্রেড,২৩ অক্টোবর- সার্বিয়ার আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজধানী বেলগ্রেডে দেশটির ছাত্র আন্দোলনের ডাকে বিশাল গণসমাবেশ হয়েছে। আগামী রবিবারের এই গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকা বর্ষীয়ান নেতা আলেকজান্ডার ভুচিচের দলকে সরিয়ে পরিবর্তন আনতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ দেশটির সাধারণ শিক্ষার্থী ও জনগণ।

শিক্ষার্থী, তরুণ সমাজ এবং তাদের সমর্থকদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই বিশাল পদযাত্রা ও সমাবেশে প্রায় দেড় লাখের বেশি মানুষের সমাগম হয়। ‘স্টুডেন্ট লিস্ট’ নামের এই অরাজনৈতিক ও নেতৃত্বহীন আন্দোলনটি মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, বিভিন্ন স্তরের বুদ্ধিজীবী এবং রাজনীতির বাইরের নতুন মুখ ও প্রার্থীদের নিয়ে গঠিত হয়েছে। তাদের মূল লক্ষ্য হলো রবিবারের নির্বাচনে জয়ী হয়ে সার্বিয়ার প্রগ্রেসিভ পার্টির ১৪ বছরের বেশি সময় ধরে চলা দক্ষিণপন্থী পপুলিস্ট শাসনের অবসান ঘটানো।

তবে সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, পুরো নির্বাচনী প্রচারণার সময় ভীতি প্রদর্শন, গ্রেফতার এবং সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহারের মতো ঘটনা ঘটেছে।

সমাবেশে অংশ নেওয়া ৪৭ বছর বয়সী মারিজা নেদেলকোভিক রাডিক বলেন, তিনি স্টুডেন্ট লিস্টকে সমর্থন জানাতে এসেছেন। কারণ, তরুণ প্রজন্ম অবশেষে তাকে এমন একটি দেশে বসবাসের আশা দেখিয়েছে, যেটি সত্যিকার অর্থেই একটি স্বাভাবিক দেশ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জীবনে এই প্রথম তিনি আবার বিশ্বাস করতে শুরু করেছেন যে এমনটা করা সত্যিই সম্ভব।

বৃহস্পতিবার বিকেলে বেলগ্রেডের কেন্দ্রীয় স্লাভিজা স্কোয়ারে চারদিক থেকে মানুষের ঢল এসে মিলিত হয়। এতে আশপাশের বেশ কয়েকটি সড়ক জনাকীর্ণ হয়ে পড়ে। ‘ছাত্ররাই জিতছে’ লেখা বিভিন্ন পতাকা নেড়ে, নানা স্লোগান দিয়ে এবং বাঁশি বাজিয়ে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও তাদের সমর্থক বেলগ্রেডের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে স্লাভিজা স্কোয়ারে এসে জড়ো হন। স্বাধীনভাবে গণজমায়েত পর্যবেক্ষণকারী দল ‘আর্কাইভ অব পাবলিক গ্যাদারিং’-এর হিসাব অনুযায়ী, এই বিশাল সমাবেশে প্রায় দেড় লাখ মানুষ অংশ নিয়েছিলেন।

সমাবেশে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে স্টুডেন্ট লিস্টের ২৫০ জন প্রার্থীর একজন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জুগোস্লাভ গ্যাসিক বলেন, তারা ১৪ বছরের অপমান, বিশৃঙ্খলা ও বিশ্বাসঘাতকতার অবসান ঘটাতে চলেছেন। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থকে মানুষের কল্যাণের ওপরে রাখার সংস্কৃতিরও ইতি টানছেন তারা। এ সময় উপস্থিত জনতা ‘বিজয়, বিজয়’ বলে স্লোগান দিতে থাকে। তিনি আরও বলেন, জনগণ এর চেয়ে অনেক ভালো কিছু পাওয়ার যোগ্য এবং কীভাবে তা বাস্তবায়ন করতে হয়, সেটাও তাদের জানা আছে। কারণ, শেষ পর্যন্ত ছাত্ররাই বিজয়ী হতে চলেছে।

সার্বিয়ার রাজনীতিতে গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রধানমন্ত্রী অথবা রাষ্ট্রপতি হিসেবে একচ্ছত্র আধিপত্য ধরে রেখেছেন আলেকজান্ডার ভুচিচ। তীব্র রাজনৈতিক চাপের মুখে গত মাসেই তিনি আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দেন।

এস এম/ ২৩ অক্টোবর ২০২৬

More from আন্তর্জাতিকMore posts in আন্তর্জাতিক »

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Mission News Theme by Compete Themes.