Notice: Function _load_textdomain_just_in_time was called incorrectly. Translation loading for the matomo domain was triggered too early. This is usually an indicator for some code in the plugin or theme running too early. Translations should be loaded at the init action or later. Please see Debugging in WordPress for more information. (This message was added in version 6.7.0.) in /home/gbtnews/public_html/wp-includes/functions.php on line 6131
এক আবিষ্কারেই ম্যালেরিয়া নির্মূলের ফর্মুলা – GBTnews Bangla Press "Enter" to skip to content

এক আবিষ্কারেই ম্যালেরিয়া নির্মূলের ফর্মুলা

এক আবিষ্কারেই ম্যালেরিয়া নির্মূলের ফর্মুলা

বিজ্ঞানীরা ব্যাকটেরিয়ার এমন একটি স্ট্রেইন বা ধরন খুঁজে পেয়েছেন- যেটি মশা থেকে মানুষের শরীরে ম্যালেরিয়া জীবাণুর সংক্রমণ ঠেকাতে সক্ষম। হঠাৎ করেই ব্যাকটেরিয়ার এই স্ট্রেইনটি তারা আবিষ্কার করেছেন।

ল্যাবরেটরিতে সংরক্ষিত এক ঝাঁক মশার ভেতর ম্যালেরিয়ার জীবাণু তৈরি কেন বন্ধ হয়ে গেল- তার কারণ খুঁজতে গিয়ে ব্যাকটেরিয়ার এই ধরনটির সন্ধান পান বিজ্ঞানীদের একটি দল। খবর বিবিসির।

গবেষকরা বলছেন, খুঁজে পাওয়া নতুন ধরণের এই ব্যাকটেরিয়া- যেটি স্বাভাবিক প্রাকৃতিক পরিবেশে বিরাজ করে- বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন এই প্রাণঘাতী রোগের মোকাবেলায় নতুন একটি অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করা যেতে পারে।

এখনো বিশ্বে প্রতি বছর ম্যালেরিয়ায় ছয় লাখ লোকের প্রাণহানি হয়।

নতুন আবিষ্কৃত এই ব্যাকটেরিয়ার প্রয়োগে ম্যালেরিয়া প্রতিরোধের ট্রায়াল বা পরীক্ষা এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে।

স্পেনে ওষুধ কোম্পানি জিএসকের পরিচালিত একটি গবেষণাগারে বিজ্ঞানীরা হঠাৎ করে আবিষ্কার করেন যে একটি ওষুধ তৈরির গবেষণার প্রয়োজনে আটকে রাখা এক ঝাঁক মশার শরীরে ম্যালেরিয়ার জীবাণু তৈরি হচ্ছে না।

ড. জ্যানেট রডরিগস্‌, যিনি জিএসকের ঐ ওষুধ তৈরির গবেষণায় নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন, তিনি বলেন, আমরা দেখলাম মশার ওই কলোনিতে সংক্রমণ (ম্যালেরিয়া জীবাণুর) কমতে শুরু করেছে এবং বছরের শেষ নাগাদ দেখা গেল তাদের মধ্যে ম্যালেরিয়া জীবাণুর সংক্রমণ একদম শূন্যে পৌঁছে গেছে।

বিজ্ঞানীদের ওই দলটি ২০১৪ সালের তাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার স্যাম্পল বা নমুনা ডিপ-ফ্রিজে সংরক্ষণ করে রাখেন। এর দুই বছর পর সেই নমুনায় কি ঘটলো তা খুঁটিয়ে দেখেন।

এরপর আরো কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষায় বিজ্ঞানীরা দেখনে নতুন খুঁজে পাওয়া ওই ব্যাকটেরিয়া- যেটিতে তারা নাম দিয়েছেন টিসি-ওয়ান এবং যেটি স্বাভাবিক প্রাকৃতিক পরিবেশেই অবস্থান করছে- মশার অন্ত্রনালীতে ম্যালেরিয়ার জীবাণু তৈরির প্রক্রিয়া বন্ধ করে দিয়েছে।

ড. রডরিগস্‌ বলেন, এটি (টিসি-ওয়ান ব্যাকটেরিয়া) কোনো মশার শরীরে ঢুকলে মশার জীবনচক্রের পুরোটা সময় ধরেই সক্রিয় থাকছে ও আমরা প্রমাণ পেয়েছি যে ওই ব্যাকটেরিয়াই ওই মশাগুলোর দেহে সংক্রমণ কমানোর পেছনে কাজ করেছে।

বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী সায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত নতুন তথ্যে দেখা যাচ্ছে নতুন আবিষ্কৃত এই ব্যাকটেরিয়াটি মশার দেহে ম্যালেরিয়া জীবাণুর পরিমাণ ৭৩ শতাংশ কমিয়ে দিতে সক্ষম।

এই ব্যাকটেরিয়াটি হারমেন নামের একটি মলিকিউল বা ক্ষুদ্র একটি অণু নিঃসৃত করে যেটি মশার অন্ত্রনালীতে ম্যালেরিয়ার জীবাণু তৈরির প্রক্রিয়া আটকে দেয়।

জিএসকের এই বিজ্ঞানী দল এবং যুক্তরাষ্ট্রের জন্স হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা তাদের যৌথ গবেষণায় দেখেছেন ব্যাকটেরিয়ার নিঃসৃত হারমেন মুখের সাহায্যে- যদি এর সঙ্গে চিনি মেশানো যায়- অথবা ত্বকের ভেতর দিয়ে মশার শরীরে ঢোকানো সম্ভব। মশা যেখানে বসে সেখানে এই হারমেন ছড়িয়ে রেখে এটি নিশ্চিত করা সম্ভব।

‘ম্যালেরিয়া নো মোর’ নামে একটি দাতা সংস্থার কর্মকর্তা গ্যারেথ জেনকিন্স বলেন, নতুন এই আবিষ্কার সত্যিই আশাব্যঞ্জক।

তিনি আরো বলেন, নতুন নতুন আবিষ্কার ও সৃজনশীল গবেষণা অব্যাহত রাখা গেলে আমাদের জীবদ্দশাতেই ম্যালেরিয়ার হুমকি নির্মূল করা সম্ভব।

ডি- এইচএ

More from আন্তর্জাতিকMore posts in আন্তর্জাতিক »
More from বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিMore posts in বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি »
More from স্বাস্থ্যMore posts in স্বাস্থ্য »
Mission News Theme by Compete Themes.