Press "Enter" to skip to content

ফ্রান্সে তীব্র সহিংসতা: কারফিউ জারির পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও নতুন বিক্ষোভের প্রস্তুতি



প্যারিস, ২০ অক্টোবর – ফ্রান্সের বড় শহরগুলোতে চলমান ভয়াবহ দাঙ্গা ও সহিংসতাপ্রবণ এলাকায় রাতের কারফিউ জারির ফলে অবশেষে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হতে শুরু করেছে। তবে নতুন করে বিক্ষোভের প্রস্তুতি নেওয়ায় দেশজুড়ে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। সাম্প্রতিক এই অস্থিরতা গত কয়েক বছরের মধ্যে ফরাসি ভূখণ্ডের সবচেয়ে মারাত্মক সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে।

কারফিউর সুফল এবং বিভিন্ন শহরের চিত্র

ফরাসি সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাম্প্রতিক সহিংসতা থেকে প্রশাসন কঠোর শিক্ষা নিয়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য: ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় রাতের কারফিউ জারির ফলে গত রাতের পরিস্থিতি শান্ত রাখতে দারুণভাবে সহায়তা হয়েছে। প্রয়োজনে সপ্তাহের বাকি দিনগুলোতেও এই কারফিউ বলবৎ রাখা হতে পারে।

প্যারিস ও লিলে: রাজধানী প্যারিসের কেন্দ্রস্থলে বিখ্যাত ‘প্লাস দে লা রিপাবলিক’ এলাকায় পুলিশ ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার করেছে এবং লোকজনকে সরিয়ে দিয়েছে। আকাশে টহল দিচ্ছে পুলিশের হেলিকপ্টার। এছাড়া উত্তর ফ্রান্সের লিলে শহরে বিশেষভাবে অপ্রাপ্তবয়স্কদের ওপর কারফিউ কার্যকর করা হয়েছে।

মার্সেইর পদক্ষেপ: সপ্তাহান্তের দাঙ্গায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে মঙ্গলবার রাত থেকে অপ্রাপ্তবয়স্কদের ওপর কঠোর কারফিউ জারি করেছেন মার্সেইর মেয়র বেনোয়া পায়ান।

বিক্ষোভের মূল কারণ ও আটকের বিশাল বহর

জীবনযাত্রার মান কমে যাওয়া, দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি, আবাসন সংকট এবং স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক কল্যাণের ঘাটতির বিরুদ্ধে ফরাসি জনগণের ক্ষোভ দীর্ঘদিনের। এর সঙ্গে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের ধর্মঘট যুক্ত হয়ে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ফ্রান্সের এই বিক্ষোভের ঢেউ প্রতিবেশী ইতালি ও আলবেনিয়াতেও ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে মানুষ রাস্তায় নেমেছে।

বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানাঁ বিএফএম টেলিভিশনকে জানিয়েছেন, সপ্তাহান্তে আটক হওয়া ১৪৯ জন দাঙ্গাকারী বর্তমানে বিচার শুরুর অপেক্ষায় কারাগারে বন্দি রয়েছেন। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে প্রায় আড়াই হাজার মানুষের।

রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ফরাসি অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা

আর মাত্র ছয় মাস পরেই ফ্রান্সে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বর্তমান সংকটের জেরে দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তপ্ত। জনমত জরিপ অনুযায়ী, আসন্ন নির্বাচনে কট্টর ডানপন্থী ও কট্টর বামপন্থী প্রার্থীরা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন।

নতুন করে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় ফরাসি অর্থনীতিতে এর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। মঙ্গলবার ফরাসি সরকারি বন্ডের সুদ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। এমনকি দেশটির ১০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের সুদ গত ২৪ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে। বিনিয়োগকারীরা বাড়তি ঝুঁকির কারণে বাড়তি মুনাফা দাবি করায় এই রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে।

এই মারাত্মক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠতে এবং আসন্ন বাজেট বিল পাস করার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে আগামী বৃহস্পতিবার সরকার ও বিরোধী দলের রাজনৈতিক নেতাদের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী লেকর্নু।

এনএন/ ২০ অক্টোবর ২০২৬

More from আন্তর্জাতিকMore posts in আন্তর্জাতিক »

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Mission News Theme by Compete Themes.