Press "Enter" to skip to content

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধ ঠেকাতে পাকিস্তান ও কাতারের বড় উদ্যোগ: তেহরান ও ওয়াশিংটনের কাছে ‘মিডেল গ্রাউন্ড’ প্রস্তাব



তেহরান, ২০ অক্টোবর – মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সর্বাত্মক যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়া এড়াতে দুই প্রধান প্রতিপক্ষ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি নতুন সমঝোতা প্রস্তাব পাঠিয়েছে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান ও কাতার। প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘দ্য নিউ আরব’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুই দেশের নীতিনির্ধারকদের কাছে এই প্রস্তাব হস্তান্তর করা হয়েছে।

কী আছে এই ‘মিডেল গ্রাউন্ড’ প্রস্তাবে?

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের দীর্ঘদিনের বিপরীতমুখী ও অনড় দাবিগুলোর মধ্যে একটি কূটনৈতিক ভারসাম্য বা মধ্যপন্থা (Middle Ground) খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হয়েছে এই প্রস্তাবে। দুই দেশের প্রধান দাবিগুলোর আংশিক পূরণের ফর্মুলা দেওয়া হয়েছে এতে:

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি ও প্রস্তাব: ওয়াশিংটন চায় ইরান তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রাখুক। নতুন প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ইরান তাদের গোপন ও অবঘোষিত পারমাণবিক কার্যক্রম আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (IAEA) পরিদর্শকদের সরাসরি পর্যবেক্ষণের সুযোগ দেবে।

ইরানের দাবি ও প্রস্তাব: তেহরানের মূল দাবি ছিল তাদের বিদেশি ব্যাংকে জব্দকৃত অর্থ অবিলম্বে অবমুক্ত করা। নতুন ফর্মুলা অনুযায়ী, কাতারে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকে জব্দকৃত প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলারের পুরোটა না হলেও, এর বিপরীতে ইরানকে সুদের অর্থ ছাড় দেওয়া হবে।

তেহরানে পাক সেনাপ্রধানের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক

এই শান্তিপ্রচেষ্টার অংশ হিসেবে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসিম মুনির মঙ্গলবার ইরানের রাজধানী তেহরানে যান। সেখানে তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করে এই প্রস্তাবটি তেহরানের কাছে পৌঁছে দেন। দ্য নিউ আরবের একটি বিশ্বস্ত কূটনৈতিক সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এর আগে গত জুন মাসে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র ৬০ দিনের একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। কথা ছিল, এই ৬০ দিনের মধ্যে উভয়পক্ষ একটি পূর্ণাঙ্গ স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছাবে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই উদ্যোগ ভেস্তে যায়।

যুদ্ধের ক্রমবর্ধমান আশঙ্কা ও মধ্যস্থতাকারীদের দৌড়ঝাঁপ

সম্প্রতি পারস্য উপসাগরের কৌশলগত হরমুজ প্রণালীতে জ্বালানিবাহী ট্যাংকার এবং বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে ইরান। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ বা নতুন যুদ্ধ শুরুর ইঙ্গিত দিয়ে আসছিলেন।

এমন এক চরম উত্তেজনাকর ও বিস্ফোরক পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যকে আরও একটি বড় যুদ্ধের হাত থেকে বাঁচাতে কাতার ও পাকিস্তান তাদের কূটনৈতিক তৎপরতা চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে গেছে। তবে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান—কোনো পক্ষ থেকেই এই নতুন প্রস্তাবের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

এনএন/ ২০ অক্টোবর ২০২৬

More from আন্তর্জাতিকMore posts in আন্তর্জাতিক »

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Mission News Theme by Compete Themes.