Press "Enter" to skip to content

বিশ্বজুড়ে ইরানের জব্দ সম্পদের পরিমাণ কত? অমীমাংসিত ইস্যুতে জোর কূটনৈতিক তৎপরতা



তেহরান, ১৯ এপ্রিল – বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশে জব্দ হয়ে থাকা ইরানের সম্পদের পরিমাণ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতার প্রেক্ষাপটে এই বিষয়টি আবারও সামনে এলেও সুনির্দিষ্ট মোট অংকের হিসাব নিয়ে দেশগুলোর মধ্যে ভিন্নমত রয়ে গেছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সরাসরি আলোচনার প্রাক্কালে ইরান তাদের জব্দকৃত সম্পদ ফেরতের জোর দাবি তুলেছে। একই সঙ্গে যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য যথাযথ ক্ষতিপূরণও দাবি করেছে তেহরান।

এই বিষয়ে জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত সংস্থাটির মহাসচিবের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনো সংশ্লিষ্ট দেশ থেকে এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট সাড়া পাওয়া যায়নি। ইরানের সরকারি ও আধা সরকারি সূত্রগুলোর তথ্যমতে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দেশটির বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার মূল্যের সম্পদ জব্দ হয়ে আছে। ওই সময় তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ইরানি সম্পদ জব্দের নির্দেশ দিয়েছিলেন যা ছিল ইতিহাসের অন্যতম বড় পদক্ষেপ।

এই জব্দ সম্পদের তালিকায় রয়েছে তেলের রাজস্ব এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক সম্পদ। মূলত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এসব অর্থ আটকে আছে। পরবর্তী সময়ে ১৯৮১ সালের আলজিয়ার্স চুক্তির মাধ্যমে ইরান প্রায় ৩.৬ বিলিয়ন ডলার ফেরত পেলেও বাকি অর্থ বিভিন্ন দাবি নিষ্পত্তির জন্য রেখে দেওয়া হয়।

২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির পর ইরানের কিছু সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হলেও যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার পর তা পুনরায় স্থগিত হয়ে যায়। ২০২৩ সালে বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় দক্ষিণ কোরিয়ায় আটকে থাকা ৬ বিলিয়ন ডলার কাতারে স্থানান্তর করা হলেও সেখানেও কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন যে এই সম্পদ ফেরত পাওয়া ছাড়া বড় কোনো অগ্রগতি সম্ভব নয়।

এস এম/ ১৯ এপ্রিল ২০২৬



More from আন্তর্জাতিকMore posts in আন্তর্জাতিক »
Mission News Theme by Compete Themes.