Press "Enter" to skip to content

লাকসাম স্টেশনে মহানগর এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতি শুরু, আসন মাত্র ২০টি



মহানগর এক্সপ্রেস

কুমিল্লা,২৮ অক্টোবর-কক্সবাজারগামী আন্তঃনগর মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রাবিরতি শুরু হয়েছে কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে জংশনে। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হওয়ায় কুমিল্লা, চাঁদপুর ও নোয়াখালী জেলার যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে। তবে তিন জেলার বিপুলসংখ্যক মানুষের জন্য মাত্র ২০টি আসন বরাদ্দ থাকায় নতুন এ সুবিধা নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। যাত্রীদের দাবি, লাকসাম স্টেশন থেকে কক্সবাজারগামী ট্রেনে আসন বরাদ্দ বাড়িয়ে অন্তত ১০০টি করতে হবে।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) থেকে লাকসাম জংশনে মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রাবিরতি শুরু হয়েছে। এ স্টেশন থেকে কক্সবাজারগামী ট্রেনে শোভন চেয়ার শ্রেণিতে ১৫টি এবং স্নিগ্ধা শ্রেণিতে পাঁচটিসহ মোট ২০টি আসন বরাদ্দ করা হয়েছে। শোভন চেয়ার শ্রেণির টিকিটের দাম ৪১০ টাকা এবং স্নিগ্ধা শ্রেণির ভাড়া ৭৮২ টাকা। এরই মধ্যে অনলাইনে টিকিট বিক্রিও শুরু হয়েছে।

ভৌগোলিক অবস্থান ও রেল যোগাযোগব্যবস্থার কারণে লাকসাম রেলওয়ে জংশন কুমিল্লা, চাঁদপুর ও নোয়াখালী জেলার মানুষের যাতায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। তিন জেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষ দেশের নানা গন্তব্যে যাতায়াতের জন্য এ স্টেশন ব্যবহার করেন। এ কারণে লাকসামে কক্সবাজারগামী ট্রেনের যাত্রাবিরতি আশপাশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের মানুষের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।

এত দিন লাকসাম থেকে সরাসরি কক্সবাজারগামী ট্রেনে ওঠার সুযোগ না থাকায় অনেক যাত্রীকে বিকল্প স্টেশন অথবা সড়কপথের ওপর নির্ভর করতে হতো। এতে যাত্রার সময় ও খরচ বাড়ার পাশাপাশি সংযোগকারী পরিবহন ব্যবহারের বাড়তি ঝামেলাও পোহাতে হতো। বিশেষ করে পরিবার নিয়ে ভ্রমণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষা সফর কিংবা দলগত পর্যটনের ক্ষেত্রে এ ভোগান্তি বেশি অনুভূত হতো।

মহানগর এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতি চালু হওয়ায় এখন তিন জেলার যাত্রীরা লাকসাম থেকে কক্সবাজারগামী ট্রেনে ওঠার সুযোগ পাচ্ছেন। এর ফলে সড়কপথের ওপর নির্ভরতা কমার পাশাপাশি পর্যটন ভ্রমণে সময় ও অর্থ সাশ্রয়ের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। তবে আসনসংখ্যা সীমিত হওয়ায় এ সুবিধা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় যাত্রীরা।

তাঁদের মতে, তিন জেলার বিপুলসংখ্যক সম্ভাব্য যাত্রীর জন্য মাত্র ২০টি আসন প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত কম। ফলে নতুন এ সুবিধার সুফল সীমিতসংখ্যক মানুষই ভোগ করতে পারবেন। যাত্রীদের প্রকৃত চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আসন বরাদ্দ বাড়ানো জরুরি। লাকসাম স্টেশন থেকে কক্সবাজারগামী ট্রেনে শতাধিক আসন বরাদ্দ করা হলে আরও বেশি মানুষ এ সুবিধা নিতে পারবেন বলে মনে করেন তাঁরা।

লাকসাম প্রেস ক্লাবের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির (দুপ্রক) সাবেক সভাপতি মো. মুজিবুর রহমান দুলাল বলেন, ‘লাকসাম রেলওয়ে জংশন দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে স্টেশন। এ জংশনের মাধ্যমে কুমিল্লা, চাঁদপুর ও নোয়াখালী জেলার বিপুলসংখ্যক মানুষ দেশের বিভিন্ন স্থানে ট্রেনে যাতায়াত করেন। এ স্টেশনে কক্সবাজারগামী ট্রেনের যাত্রাবিরতি নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। এর ফলে তিন জেলার মানুষের কক্সবাজার যাতায়াত আরও সহজ হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিপুলসংখ্যক যাত্রীর চাহিদার তুলনায় বর্তমানে যে পরিমাণ আসন বরাদ্দ রাখা হয়েছে, তা অত্যন্ত অপ্রতুল। তাই যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন ও জনসাধারণের সুবিধার কথা বিবেচনা করে রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ লাকসাম স্টেশন থেকে শতাধিক আসন বরাদ্দের বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেবেন বলে আমরা আশাবাদী।’

লাকসাম রেলওয়ে জংশনের স্টেশন মাস্টার মো. ওমর ফারুক ভূঁইয়া জানান, কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী আন্তঃনগর মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেন লাকসাম রেলওয়ে জংশনে ইতোমধ্যে যাত্রাবিরতি শুরু করেছে। এ রুটে যাতায়াতের জন্য যাত্রীরা অনলাইনে টিকিট কেনার সুযোগও পাচ্ছেন।

তিনি আরও জানান, লাকসাম রেলওয়ে জংশন থেকে যাত্রীরা যাতে নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে যাতায়াত করতে পারেন, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সেবার মান বজায় রাখতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

এস এম/ ২৮ অক্টোবর ২০২৬

More from বাংলাদেশMore posts in বাংলাদেশ »

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Mission News Theme by Compete Themes.