Press "Enter" to skip to content

আকাশ প্রতিরক্ষায় ইসরায়েলি প্রযুক্তিতেই ভরসা ভারতের, আসছে যৌথ উৎপাদন চুক্তি

নয়া দিল্লি, ২১ ফেব্রুয়ারি – সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর ইসরায়েল নির্ভরতা ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এবার সামরিক ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা নতুন মাত্রা পেতে চলেছে বিশেষ করে আকাশ প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সম্ভাব্য হামলা রুখতে ইসরায়েলি প্রযুক্তির ওপরই আস্থা রাখছে ভারত। যৌথ উদ্যোগে অত্যাধুনিক অস্ত্র এবং সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনের লক্ষ্যে নয়াদিল্লি ও তেল আবিব একটি নতুন সমঝোতায় পৌঁছাতে যাচ্ছে বলে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে।

এই সমঝোতার অন্যতম প্রধান অংশ হলো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা, লেজার অস্ত্র, দূরপাল্লার স্ট্যান্ড অফ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোনের যৌথ উৎপাদন। আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি দুদিনের সফরে ইসরায়েল যাচ্ছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে কৌশলগত সম্পর্ক, প্রতিরক্ষা, কৃষি ও সন্ত্রাস মোকাবিলায় সমন্বয় জোরদার করতে মোদির এই সফরে একাধিক দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। এর মধ্যে আকাশ প্রতিরক্ষা বিষয়ক সমঝোতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সামরিক পর্যবেক্ষকদের মতে শত্রুপক্ষের যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের হামলা ঠেকাতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বাহিনী মূলত আয়রন ডোম, ডেভিডস স্লিং অ্যান্ড অ্যারো এবং আমেরিকার থাড সিস্টেম ব্যবহার করে।

এর মধ্যে মার্কিন থাড এর বিকল্প হিসেবে রাশিয়ার তৈরি এস ৪০০ ইতিমধ্যেই ভারতের হাতে রয়েছে। রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে নির্মীয়মাণ ইন্টিগ্রেটেড এয়ার ডিফেন্স ওয়েপন সিস্টেম বা আইএডিডব্লিউএস আগামী দিনে ভারতীয় সেনাবাহিনীর আয়রন ডোম হতে চলেছে। ওভার দ্য হরাইজন বা দিগন্তের বাইরে নজরদারি এবং প্রত্যাঘাতের ক্ষমতাসম্পন্ন এই বহুস্তরীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় কুইক রিঅ্যাকশন সারফেস টু এয়ার মিসাইল, অ্যাডভান্সড ভেরি শর্ট এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম এবং ডায়রেক্ট এনার্জি ওয়েপন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

আকাশ প্রতিরক্ষায় ইসরায়েলি প্রযুক্তিতেই ভরসা ভারতের, আসছে যৌথ উৎপাদন চুক্তি রাফাল অ্যাডভান্সড ডিফেন্স সিস্টেমস এবং মার্কিন সংস্থা রেথিয়নের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত ডেভিডস স্লিং অ্যান্ড অ্যারো এখন ভারতের নজরে রয়েছে। এই প্রযুক্তিতে শত্রুপক্ষের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র চিহ্নিত করে আকাশেই ধ্বংস করার সক্ষমতা রয়েছে। ডেভিডস স্লিং স্বল্পপাল্লার এবং অ্যারো দূরপাল্লার লক্ষ্যবস্তুকে আঘাত করতে ব্যবহৃত হয়। অ্যারো ২ এবং অ্যারো ৩ সংস্করণগুলো প্রায় ২০০ কিলোমিটার পাল্লা পর্যন্ত কাজ করতে পারে এবং স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারেই শত্রু ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে সক্ষম।

এস এম/ ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬



More from আন্তর্জাতিকMore posts in আন্তর্জাতিক »
Mission News Theme by Compete Themes.