Press "Enter" to skip to content

ইরানের অবশিষ্টাংশ ধ্বংস ও হরমুজের নিরাপত্তা নিয়ে মিত্রদের ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

ওয়াশিংটন, ১৮ মার্চ – যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের অবশিষ্ট যা কিছু আছে তা পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সেই সব দেশের ওপর ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন যারা এই জলপথটি ব্যবহার করে। কারণ ওই দেশগুলো ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের জোটে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

বুধবার নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই কড়া বার্তা দেন।

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল সরবরাহের অন্যতম প্রধান পথ হরমুজ প্রণালির যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রয়োজন নেই বলে ট্রাম্প তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন যুক্তরাষ্ট্রের যদি ইরানি সন্ত্রাসী রাষ্ট্রের অবশিষ্টাংশ শেষ করে দেয় এবং যারা এই প্রণালি ব্যবহার করে তাদের হাতে এর দায়িত্ব ছেড়ে দেয় তবে কী ঘটবে সেটিই এখন দেখার বিষয়।

ট্রাম্প আরও জানান যে যুক্তরাষ্ট্র এটি ব্যবহার করে না এবং এই পদক্ষেপ তাদের অনেক নিষ্ক্রিয় মিত্রদের দ্রুত লাইনে নিয়ে আসবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে হামলা শুরু করার পর থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। যুদ্ধের আগে এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক পঞ্চমাংশ জ্বালানি ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানি করা হতো। ইরান বারবার দাবি করেছে যে হরমুজ প্রণালি বন্ধ নয়। তবে হামলা বন্ধ না করলে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েল এবং তাদের মিত্রদের কোনো জাহাজকে প্রণালি পার হতে দেওয়া হবে না বলে তারা সতর্ক করেছে। পার হতে চেষ্টা করলে হামলা চালানো হবে বলেও জানানো হয়েছে।

এ পর্যন্ত সেখানে অন্তত ১৬টি জাহাজ ও ট্যাংকারে হামলা হয়েছে। তবে যুদ্ধের মধ্যেও ইরানের বিশেষ অনুমতি নিয়ে ভারত তুরস্ক ও পাকিস্তানের কয়েকটি ট্যাংকার প্রণালিটি পার হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ১০৮ ডলার ছাড়িয়েছে যা যুদ্ধ পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় ৪০ ডলারেরও বেশি।

জ্বালানির দাম বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক মহলের চাপ তৈরি হয়েছে। এ কারণে যুদ্ধের শুরু থেকেই ন্যাটো ও এশিয়ার মিত্রদের হরমুজে যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে আহ্বান জানিয়ে আসছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কয়েক দফা আহ্বান সত্ত্বেও যুক্তরাজ্য জার্মানি ফ্রান্স ইতালি গ্রিস ও স্পেনসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রায় কোনো ন্যাটোভুক্ত দেশ এখন পর্যন্ত ট্রাম্পের আহ্বানে সাড়া দেয়নি। হরমুজ প্রণালি দিয়ে আসা জ্বালানির বড় অংশই এশিয়ার বিভিন্ন দেশে যায়। কিন্তু এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম মিত্র জাপান ও অস্ট্রেলিয়াও হরমুজে জাহাজ না পাঠানোর কথা সাফ জানিয়ে দিয়েছে। কেবল দক্ষিণ কোরিয়া বলেছে যে তারা ট্রাম্পের এই আহ্বান বিবেচনা করে দেখবে।

পাশাপাশি প্রণালিটি নিরাপদ রাখতে সেখানে যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে চীনের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছিলেন ট্রাম্প তবে স্বাভাবিকভাবেই চীন তাতে সাড়া দেয়নি। মিত্র এবং অন্যান্য দেশগুলোর এমন নীরবতায় বেশ হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়েছেন ট্রাম্প।

এদিকে গত মঙ্গলবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টকম জানিয়েছে যে তারা হরমুজ উপকূলের কাছে অবস্থিত ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ধ্বংস করতে বিশাল বাংকার বাস্টার বোমা ব্যবহার করছে।

এনএন/ ১৮ মার্চ ২০২৬



More from আন্তর্জাতিকMore posts in আন্তর্জাতিক »
Mission News Theme by Compete Themes.