Notice: Function _load_textdomain_just_in_time was called incorrectly. Translation loading for the matomo domain was triggered too early. This is usually an indicator for some code in the plugin or theme running too early. Translations should be loaded at the init action or later. Please see Debugging in WordPress for more information. (This message was added in version 6.7.0.) in /home/gbtnews/public_html/wp-includes/functions.php on line 6131
শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ক্রীড়ার সমন্বয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গড়তে চাই: মাহদী আমিন – GBTnews Bangla Press "Enter" to skip to content

শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ক্রীড়ার সমন্বয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গড়তে চাই: মাহদী আমিন

ঢাকা: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বলেছেন, শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং ক্রীড়া এই তিনের সমন্বয়ে আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গড়ে তুলতে চাই। যেখানে তাদের ভেতরে টিম স্কিল ডেভেলপ করবে, ডিসিপ্লিন ডেভেলপ করবে, ইন্টারপার্সোনাল এবং ট্রান্সফারেবল স্কিল ডেভেলপ করবে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) প্রাথমিক গোল্ডকাপ ফুটবলের ফাইনাল উপলক্ষ্যে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আসার পর থেকে গত ৪ মাসে অভূতপূর্ব উন্নয়ন এবং অগ্রযাত্রা সাধিত হয়েছে। যেখানে নির্বাচনি ইশতেহারে প্রণীত প্রতিটি বিষয়কে সেক্টরভিত্তিক ভাবে আইডেন্টিফাই করে সেই তালিকা অনুযায়ী আমরা আমাদের কর্মযজ্ঞ গ্রহণ করেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আমরা প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের মতো করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় নির্বাচনি প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের জন্য সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাচ্ছি। যেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর রূপকল্পগুলো আমরা দ্রুততম সময়ের ভেতরে বাস্তবায়ন করতে পারি।‘

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘আমাদের মূল উদ্দেশ্য এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করা যেখানে সমতা থাকবে, ন্যায্যতা থাকবে, শহর এবং গ্রামের মাঝে শিক্ষার যে পার্থক্য, বিভেদ বা বৈষম্য রয়েছে সেটি কমে আসবে।’

মাহদী আমিন বলেন, ‘দেশজুড়ে স্পোর্টস এবং কালচারের সাথে বিভিন্ন ধরনের প্রতিযোগিতার মিশ্রণ পাঠাচ্ছি। আমরা একদম তৃণমূলের গ্রামীণ স্কুল থেকে শুরু করে রাজধানী ঢাকা পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের দেশব্যাপী কম্পিটিশন শুরু করেছি এবং আমাদের লক্ষ্য বিতর্ক, সায়েন্স ফেস্টিভাল, এন্টারপ্রেনারশীপ বিভিন্ন ধরনের ইনোভেটিভ আইডিয়াকে নিয়ে এবং স্পোর্টসের বিভিন্ন ধারা বা বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে আমরা যেন সে ধরনের সৃজনশীলতা ভূমি প্রকাশ করাতে পারি। আমরা ইতোমধ্যে ‘নতুন কুঁড়ি’ শুরু করেছি স্পোর্টসের জন্য, কালচারের জন্য। সামনে ইনশাআল্লাহ কোরআন তেলাওয়াতের জন্য শুরু হবে এবং আমাদের আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তুলবে যে শিক্ষার্থীরা তাদেরকে যেন সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পারি, তাদেরকে যেন দক্ষ, যোগ্য এবং কর্মক্ষম হিসেবে গড়ে তুলতে পারি, তার জন্য আমরা আমাদের এডুকেশন কারিকুলামকে ঢেলে সাজাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের মূল উদ্দেশ্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী আমাদের যারা আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তুলবে তাদেরকে যেন বাস্তব জীবনের সাথে সম্পৃক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা দিতে পারি। রিয়েল ওয়ার্ল্ডের সাথে কানেক্টিভিটি থাকবে। আরো বেশি ইন্টার্নশিপ এবং এপ্রেন্টিসশিপ থাকবে। বিশেষত প্রাইমারি স্কুলের ক্ষেত্রে আমরা আগামী শিক্ষাবর্ষে ক্লাস ফোর থেকে ২টি নতুন সাবজেক্ট ইন্ট্রোডিউস করছি। একটি সাবজেক্টের নাম হচ্ছে স্পোর্টস, আরেকটা সাবজেক্ট হচ্ছে কালচার।’

তিনি আরও বলেন, “ক্লাস সিক্স থেকে আমরা আরো ২টি নতুন সাবজেক্ট শুরু করতে চাচ্ছি। আগামী শিক্ষাবর্ষে একটা ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ অর্থাৎ একটা আনন্দময় শিক্ষা ব্যবস্থা যেখানে ক্লাসে জোর করে পড়ানো হবে না। পুথিগত শিক্ষাকে পেরিয়ে একসাথে আমাদের শিক্ষার্থীরা আনন্দমুখর পরিবেশে বিদ্যা অর্জন করবে এবং আরেকটা কোর্স শুরু করতে যাচ্ছি আমরা। সেটা হচ্ছে ‘টেকনিক্যাল এন্ড ভোকেশনাল এডুকেশন’। সেটা এই মুহূর্তে আছে কিন্তু প্রত্যেকের জন্য ম্যান্ডেটরি না। আগামী শিক্ষাবর্ষে ক্লাস সিক্স থেকে সবার জন্য প্রাথমিকভাবে থিওরেটিক্যালি এবং এইট অনওয়ার্ড অবশ্যই প্রত্যেকটা স্কুলে যখন ধারাবাহিকভাবে আমরা ল্যাব স্থাপন করতে পারি এবং টেকনিক্যাল এবং প্রফেশনাল এডুকেশন বা কারিগরি শিক্ষা যেন সকল শিক্ষার্থী এনজয় করতে পারে, প্রাক্টিক্যালি ইমপ্লিমেন্ট করতে পারে সে ধরনের একটা ব্যবস্থা তৈরি করতে চাই।”

মাহদী আমিন আরও বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর যে ভিশন সে অনুযায়ী আমরা শিক্ষা ব্যবস্থার পাঠ্যক্রমের বাইরেও সৃজনশীল এবং মেধার বহিঃপ্রকাশ ঘটে এমন বহুমুখী কর্মকাণ্ড শুরু করেছি। আপনারা ইতোমধ্যে জেনেছেন, ক্লাস ওয়ান থেকে ফাইভ পর্যন্ত অর্থাৎ প্রাথমিক স্কুলের যেসব ছাত্রছাত্রী পড়ে তাদের মাধ্যমে কিন্তু আমরা একটা বিপ্লব সৃষ্টি করেছি ক্রীড়া ক্ষেত্রে। আপনারা হয়ত অনেকেই সেভাবে লক্ষ্য করেননি যে এপ্রিল মাসের ৬ তারিখ থেকে শুরু হয়ে গত প্রায় আড়াই মাস ধরে বাংলাদেশের তৃণমূল থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত ১১ লক্ষের বেশি ছাত্র এবং ১১ লক্ষের বেশি ছাত্রী ৬৫ হাজার ৩৪২ স্কুল থেকে একটি ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছে। এই প্রায় ১১ লক্ষের বেশি ছাত্র এবং ১১ লক্ষের বেশি ছাত্রী, তারা গ্রাম থেকে শুরু করে ধারাবাহিকভাবে ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা, বিভাগ হয়ে ঢাকায় চূড়ান্ত পর্যায়ে এসেছেন এবং এই ২০ জুন ফাইনাল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতীয় আর্মি স্টেডিয়ামে এবং সেখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন।’

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘আমরা আপনাদেরকে আহ্বান জানাবো আমাদের এই শিশুদের যে স্পোর্টস পার্টিসিপেশন রয়েছে সেটাকে এনকারেজ করার জন্য। আপনারা মিডিয়া থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকার মাধ্যমে তাদেরকে আরো বেশি অনুপ্রাণিত করবেন। আমাদের শিশুরা যখন দেখবে এই ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা খেলাধুলা করার কারণে জাতীয়ভাবে স্বীকৃতি পাচ্ছে, আপনারা তাদেরকে ফিচার করছেন, হাইলাইট করছেন স্বাভাবিকভাবেই তারা অনেক বেশি অনুপ্রাণিত হবে। প্রথম বছরে আমরা ২২ লক্ষ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছি এবং আপনারা যদি সহযোগিতা করেন ইনশা-আল্লাহ চলমান এই প্রক্রিয়ায় পরবর্তী প্রতিযোগিতায় আমরা এই সংখ্যাটিকে অনেক বাড়াতে পারবো।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য ধারাবাহিকভাবে অন্ততপক্ষে ৫০ লক্ষ শিক্ষার্থী যেন পরবর্তী ফুটবল টুর্নামেন্টগুলোতে সারা দেশব্যাপী ক্লাস ওয়ান থেকে ফাইভ এর ভেতরে অংশগ্রহণ করে। এর পাশাপাশি আমাদের আরেকটা লক্ষ্য রয়েছে যার প্রতিফলন হিসেবে ক্লাস সিক্স থেকে টুয়েল্ভ পর্যন্ত আমরা স্টার্ট-আপ সায়েন্স, প্রজেক্ট এবং ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং-এর একটা কম্পিটিশন আয়োজন করছি। ইতোমধ্যে এখানে আমরা দেখেছি ১২ হাজার টিম অংশগ্রহণ করেছে। ১২ হাজার টিমের প্রত্যেকটিতে ৩ জন করে স্টুডেন্ট অর্থাৎ প্রায় ৩৬ হাজার স্টুডেন্ট এবং দুইজন করে টিচার অর্থাৎ প্রায় ২৪ হাজার টিচার এখানে অংশগ্রহণ করেছে, তাদের বিভিন্ন রকমের উদ্যোক্তামূলক চিন্তাভাবনা কি কি রয়েছে, খুব ভালো বৈজ্ঞানিক কি ধরনের চিন্তাভাবনা রয়েছে এবং সেগুলোকে আমরা চেষ্টা করছি যে, কিভাবে কমার্শিয়ালাইজ করতে পারি? ফান্ডিং প্রোভাইড করতে পারি? তাঁদেরকে পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করতে পারি ‘

তিনি আরও বলেন, ‘এখানে যে ফাইনাল হবে সেটা এই মাসের ২৯ তারিখে সে অনুষ্ঠান হবে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে। সেখানেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন এবং সেখানে ১০০টি টিম থাকবে এবং ১০০টি টিমকে উনি পরবর্তীতে বিভিন্নভাবে মূল্যায়ন করবেন, স্বীকৃতি দেবেন, বিজয়ীর হাতে পুরস্কার তুলে দিবেন।’

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ উপস্থিত ছিলেন।

সুত্রঃ সারাবাংলা.নেট

More from শিক্ষাMore posts in শিক্ষা »

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Mission News Theme by Compete Themes.