
শ্রী জয়াবর্ধনেপুরা, ২২ মার্চ – মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে শ্রীলঙ্কার অর্থনীতিতে। যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং ইরানের মধ্যকার তীব্র উত্তেজনার কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় শ্রীলঙ্কা সরকার আবারও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
রোববার দেশটির বাজারে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম প্রায় ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে এটি দেশটিতে দ্বিতীয়বারের মতো জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ঘটনা। সরকারি নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সাধারণ পেট্রোলের দাম লিটারপ্রতি ৩১৭ রুপি থেকে বাড়িয়ে ৩৯৮ রুপি নির্ধারণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, গণপরিবহনে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত ডিজেলের দাম এক ধাক্কায় ৭৯ রুপি বেড়ে ৩৮২ রুপিতে দাঁড়িয়েছে। এর আগে গত সপ্তাহে খুচরা পর্যায়ে জ্বালানির দাম ৮ শতাংশ বাড়ানোর পাশাপাশি এর ব্যবহার কমাতে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করেছিল দেশটির সরকার। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা সিলন পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই সর্বশেষ মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে দেশে জ্বালানির ব্যবহার ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকে ইতোমধ্যে দেশবাসীকে সতর্ক করে জানিয়েছেন যে মধ্যপ্রাচ্যের এই দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত শ্রীলঙ্কার জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার সপ্তাহে চার দিন কর্মদিবস চালুর নির্দেশ দিয়েছে এবং সম্ভব হলে কর্মীদের বাসা থেকে কাজ বা ওয়ার্ক ফ্রম হোম পুনরায় চালুর আহ্বান জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। শান্তিকালীন সময়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এই গুরুত্বপূর্ণ পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়ে থাকে। উল্লেখ্য, শ্রীলঙ্কার জ্বালানি ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে আমদানির ওপর নির্ভরশীল।
দেশটি সাধারণত সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া থেকে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি করে এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে অপরিশোধিত তেল সংগ্রহ করে। সরকার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে মধ্যপ্রাচ্যের এই দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ ২০২২ সালের ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে ওঠার চলমান প্রচেষ্টাকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
ওই বছর চরম বৈদেশিক মুদ্রার সংকটে পড়ে ৪৬ বিলিয়ন ডলারের বিদেশি ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছিল দ্বীপরাষ্ট্রটি। পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের কাছ থেকে ২ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারের ঋণ সহায়তা পেয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে দেশটি।
এ এম/ ২২ মার্চ ২০২৬


















