Press "Enter" to skip to content

হজযাত্রীদের কোরবানি না দিয়েই টাকা আত্মসাতের ফন্দি: ‘আল মুলতাজিম ট্রাভেলস’কে ১ লাখ টাকা জরিমানা



ঢাকা, ২২ অক্টোবর – পবিত্র হজ পালনে যাওয়া নিরীহ ধর্মপ্রাণ মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে অর্থ আত্মসাৎ এবং প্রাক-নিবন্ধনের টাকা আটকে রেখে হয়রানির অভিযোগে দুটি হজ এজেন্সির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। জালিয়াতি ও চুক্তিভঙ্গের প্রমাণ পাওয়ায় ‘আল মুলতাজিম হজ্জ কাফেলা ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস’-কে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অন্যদিকে, প্রাক-নিবন্ধনের টাকা যথাসময়ে ফেরত না দিয়ে হজযাত্রীদের ভোগান্তিতে ফেলার দায়ে ‘ডিবিএইচ ইন্টারন্যাশনাল’ নামক আরেকটি এজেন্সিকে প্রশাসনিক সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজ-৪ শাখা থেকে জারি করা পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

আল মুলতাজিম ট্রাভেলসের ভয়াবহ জালিয়াতির চিত্র

১৪ জন হজযাত্রীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধানে নেমে আল মুলতাজিম ট্রাভেলসের একাধিক জালিয়াতি ও অনিয়ম উন্মোচিত হয়:

ভুয়া তথ্য দিয়ে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের চেষ্টা: এজেন্সিটি প্রায় ২ হাজার ২০০ জন হজযাত্রীর কাছ থেকে কোরবানির কথা বলে জনপ্রতি ৭২০ সৌদি রিয়াল (প্রায় ২৩ হাজার ৬৫২ টাকা) সংগ্রহ করে। তবে ‘নুসুক মাসার পোর্টাল’-এর তথ্য পরীক্ষা করে দেখা যায়, তামাত্তু হজে নিবন্ধিত তাদের ২ হাজার ৭৭ জন হজযাত্রীর মধ্যে মাত্র ১ হাজার ৩৫০ জনের কোরবানি নিশ্চিত করা হয়েছিল। বাকি ৭২৭ জন হজযাত্রীকে ভুয়া তথ্য দিয়ে ‘রোজাদার’ বানিয়ে কোরবানির পুরো টাকাটাই আত্মসাৎ করার পাঁয়তারা চালানো হয়।

সেবা প্রদানে ব্যর্থতা: তদন্তে দেখা গেছে, এজেন্সিটি কোনোভাবেই বাকিদের কোরবানি নিশ্চিত তো করেইনি, বরং চুক্তি অনুযায়ী প্রতিশ্রুত আবাসন, মানসম্মত খাবার ও পরিবহন সেবা দিতেও চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।

জরিমানা ও শাস্তির আলটিমেটাম: যদিও অভিযোগকারীরা পরবর্তীতে লিখিতভাবে অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন, কিন্তু রাষ্ট্রীয় তদন্তে জালিয়াতির প্রমাণ মিল দেওয়ায় ‘হজ ও ওমরাহ ব্যবস্থাপনা আইন’ অনুযায়ী আল মুলতাজিম ট্রাভেলসকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আদেশ পাওয়ার ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে এই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা না দিলে সংস্থাটির অফিশিয়াল ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে।

ডিবিএইচ ইন্টারন্যাশনালের হয়রানি ও সরকারের সতর্কবার্তা

অপর এক প্রজ্ঞাপনে প্রাক-নিবন্ধনের অর্থ দীর্ঘপ্রক্রিয়ায় আটকে রাখার অভিযোগে ‘ডিবিএইচ ইন্টারন্যাশনাল’ নামক সংস্থাকে সতর্ক করার কথা জানানো হয়:

ঘটনার নেপথ্য: দুই ভুক্তভোগী হজযাত্রী ২০২২ সালে হজের জন্য প্রাক-নিবন্ধন করেছিলেন। দীর্ঘ ৩ বছর পর সেই নিবন্ধন আর্কাইভ হয়ে যাওয়ায় তারা ২০২৬ সালে নতুন করে আবার প্রাক-নিবন্ধন করেন। কিন্তু পরবর্তীতে পারিবারিক ও আর্থিক সংকটের কারণে হজে যেতে অসমর্থ হয়ে তারা জমার টাকা ফেরতের আবেদন জানান।

টাকা আটকে রেখে হয়রানি: এজেন্সিটি তাদের নিবন্ধন বাতিল করলেও দীর্ঘ সময় ধরে জমানো টাকা ফেরত না দিয়ে ঘুরাতে থাকে। পরবর্তীতে অর্থ ফেরত পেয়ে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ প্রত্যাহার করলেও, অহেতুক ও দীর্ঘমেয়াদী এই মানসিক হয়রানির কারণে হজ ও ওমরাহ ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী ডিবিএইচ ইন্টারন্যাশনালকে ভবিষ্যতে সতর্কতার সাথে কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কঠোর বার্তা

হজ ব্যবস্থাপনাকে স্বচ্ছ ও জালিয়াতিমুক্ত রাখতে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছেন সাধারণ হজযাত্রীরা। এই কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা ভবিষ্যতে অন্য এজেন্সিগুলোকেও হাজিদের আমানত রক্ষা এবং সঠিক সেবা প্রদানে বাধ্য করবে।

এনএন/ ২২ অক্টোবর ২০২৬

More from বাংলাদেশMore posts in বাংলাদেশ »

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Mission News Theme by Compete Themes.