
ঢাকা, ২৭ মার্চ – প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম অনিবার্য চরিত্র। তিনি হঠাৎ করেই স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি।
শুক্রবার বিকালে রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে সরকারি দল বিএনপি আয়োজিত স্বাধীনতা দিবসের আলোচনা সভায় দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের শুরুতে দলের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়।
জিয়াউর রহমানের লেখা একটি প্রবন্ধের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একাত্তরের ২৬ মার্চ রাত ২টা ১৫ মিনিটে কী হয়েছিল, তা গবেষকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হতে পারে। তিনি জানান, অতীতে জিয়াউর রহমানের অবদানকে খাটো করার চেষ্টা করা হলেও তিনি যে মুক্তিযুদ্ধের একজন অনিবার্য চরিত্র তা প্রমাণিত হয়েছে। জিয়াউর রহমান প্রথম জীবনে সামরিক সৈনিক হলেও স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য তার একটি দীর্ঘ মানসিক প্রস্তুতি ছিল, যা তার নিজের লেখা থেকেই স্পষ্টভাবে বোঝা যায়।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে জিয়াউর রহমানের লেখা একটি জাতির জন্ম শীর্ষক প্রবন্ধের উল্লেখ করেন। তিনি জানান, প্রবন্ধটি প্রথম ১৯৭২ সালের ২৬ মার্চ দৈনিক বাংলা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। সেখানে জিয়াউর রহমান ২৬ মার্চ রাত ২টা ১৫ মিনিটের কথা উল্লেখ করেছিলেন, যা বাঙালিদের হৃদয়ে রক্তের অক্ষরে লেখা একটি দিন। পরবর্তীতে ১৯৭৪ সালে সাপ্তাহিক বিচিত্রায় প্রবন্ধটি পুনরায় প্রকাশিত হলেও তৎকালীন সরকার বা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা এর কোনো বিরোধিতা করেননি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অতীত থেকে শিক্ষা নেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীত নিয়ে সবসময় পড়ে থাকলে এক চোখ অন্ধ, আর অতীতকে ভুলে গেলে দুই চোখই অন্ধ। তাই অতীতকে ভুলে যাওয়া চলবে না, তবে অতীত নিয়ে অতিরিক্ত চর্চা যেন আমাদের সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎকে বাধাগ্রস্ত না করে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
বক্তব্যের শেষে তিনি ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা অর্জন এবং ২০২৪ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের কথা স্মরণ করে বলেন, প্রতিটি আন্দোলন ও সংগ্রামের শহীদদের আকাঙ্ক্ষা ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারভিত্তিক একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও নিরাপদ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা।
এনএন/ ২৭ মার্চ ২০২৬










