Notice: Function _load_textdomain_just_in_time was called incorrectly. Translation loading for the matomo domain was triggered too early. This is usually an indicator for some code in the plugin or theme running too early. Translations should be loaded at the init action or later. Please see Debugging in WordPress for more information. (This message was added in version 6.7.0.) in /home/gbtnews/public_html/wp-includes/functions.php on line 6131
ফাইভ-জিতে অনাগ্রহ কেন – GBTnews Bangla Press "Enter" to skip to content

ফাইভ-জিতে অনাগ্রহ কেন

তরঙ্গ নিলামের শর্ত ও নীতিমালা চূড়ান্ত হয়নি > ‘বুঝে-শুনে আগে বাড়তে চায় বেসরকারি অপারেটররা

রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল ফোন অপারেটর টেলিটকের হাত ধরে বাংলাদেশ ফাইভ-জি যুগে প্রবেশ করলেও এ সেবা চালুতে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না অন্য অপারেটরদের। সরকার এ বছরের মার্চেই ফাইভ-জির তরঙ্গ নিলাম করতে চায়। কিন্তু এ নিলামে বেসরকারি অপারেটররা অংশ নেবে কিনা- তা এখনো নিশ্চিত নয়। তারা বলছে, দেশে এখনই ফাইভ-জি উপযুক্ত বিনিয়োগ পরিবেশ তৈরি হয়নি। বিষয়টি নির্ভর করছে তরঙ্গ নিলামের শর্ত ও ফাইফ-জি নীতিমালার ওপর। যার কোনোটিই এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ফলে ‘বুঝে-শুনে’ আগে বাড়তে হবে তাদের।

গত বছরের ১২ ডিসেম্বর দেশের ৬টি স্থানে পরীক্ষামূলকভাবে ফাইভ-জি চালু করে রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিটক। এতে প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছে চায়না প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে। এর মাধ্যমে উচ্চ গতির মোবাইল ইন্টারনেটের জগতে প্রবেশ করে দেশ। চলতি বছরের মধ্যে ২০০টি এলাকায় এই সেবা ছড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে টেলিটকের।

অন্যদিকে, বেসরকারি অপারেটরদের জন্য চলতি বছরের ৮ মার্চকে সম্ভাব্য তারিখ ধরে ফাইভ-জি তরঙ্গ নিলামের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে বিটিআরসি। এরই মধ্যে ফাইফ-জি সংক্রান্ত বিটিআরসির ১৩ সদস্যের একটি কমিটি প্রাথমিক রূপরেখা তৈরি করে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে। এখন সেটি পরিবর্তন-পরিবর্ধনের কাজ চলছে। বিটিআরসির ওই কমিটির অধীনে বেশ কয়েকটি উপকমিটি গঠন করা হয়েছিল। উপকমিটিগুলো তরঙ্গ মূল্য নির্ধারণের জন্য বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মূল্য প্রস্তাব, প্রস্তাবিত মূল্যের যৌক্তিকতা, বেতার তরঙ্গ বরাদ্দের পদ্ধতি, উপযুক্ত সিকিউরিটি স্ট্যান্ডার্ড প্রভৃতি নিয়ে কাজ করেছে।

তবে বাজার সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করা উপকমিটির প্রতিবেদনের পর অনেকটাই হতাশ হয়ে পড়েন সংশ্লিষ্টরা। তারা সম্ভাব্য ব্যবহারকারীর তালিকা করে দেখেন, ফাইভ-জি মূলত শিল্প-কারখানা, চিকিৎসা, প্রযুক্তি বা ব্যবসা-বাণিজ্য সংক্রান্ত কাজে ব্যবহার লাভজনক হবে। সাধারণ মানুষের বিনোদন বা ভিডিও স্ট্রিমিংয়ের জন্য এ সেবা হবে অপ্রয়োজনীয় ও ব্যয়বহুল।

ফলে অর্থনৈতিক অঞ্চল ছাড়া সব জায়গায় ফাইভ-জির বিস্তারে নেটওয়ার্ক স্থাপন লাভজনক হবে না। ঝুঁকিপূর্ণ এ বিনিয়োগে আগ্রহী হবে না মোবাইল ফোন অপারেটররা। যদি ব্রডব্যান্ড লাইনে ফাইজ-জি সেবা চালু করা হয়, তবে ঝুঁকি অনেকাংশে কমবে বলে প্রতিবেদনে উঠে আসে।

এ প্রসঙ্গে এমটব মহাসচিব ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম ফরহাদ (অব.) জানান, সরকার এখন ফাইভ-জির গাইডলাইন প্রস্তুত করছে এবং তরঙ্গ নিলামের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে। নিলামে অংশ নিতে মোবাইল অপারেটরদের প্রস্তুতি নির্ভর করছে এ সংক্রান্ত শর্ত ও নীতিমালার ওপর। তিনি বলেন, ফাইভ-জির বাজার সম্ভাবনা বা বিনিয়োগ কতটুকু আকর্ষণীয়, তা নির্ভর করছে এই সেবায় আসার জন্য বিনিয়োগের বিপরীতে রিটার্নের সম্ভাবনা, ব্যবসায়িক পরিবেশ, তরঙ্গ মূল্য, ফাইভ-জির জন্য শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রস্তুতি, ফাইভ-জি হ্যান্ডসেটের মূল্য ও ব্যবহারের হার, কর কাঠামো, কারিগরি অবকাঠামোগত প্রস্তুতি প্রভৃতির ওপর। এসব বিবেচনায় রেখেই অপারেটররা নিলামে অংশ নেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করবে।

টেলিকম খাতের বিশেষজ্ঞ ড. ইশতিয়াক হোসেন বলেন, আমাদের বাস্তবতায় ফাইভ-জি এখনো লাভজনক বিনিয়োগ ক্ষেত্র নয়। কেননা দেশের সবখানে এখন পর্যন্ত ফোর-জি সেবাই ঠিক মতো পৌঁছানো যায়নি। যেখানে ফোর-জি কাভারেজ পাওয়া যাচ্ছে, সেখানেও সেবার মান খারাপ। এখন যদি মোবাইল ফোন অপারেটরদের বলা হয় ফাইভ-জি নেটওয়ার্ক তৈরি করতে, তবে তারা আগ্রহ দেখাবে না।

তিনি বলেন, দেশে ফাইভ-জি সেট সহজলভ্য নয়। এখানে নতুন বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে। সরকার নিজের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করতে পারে। কিন্তু বেসরকারি বিনিয়োগের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ দরকার হয়। বেসরকারি অপারেটররা বিনিয়োগ সুরক্ষা ও মুনাফা দুটোই খুঁজবে। বেশি চাপ দিলে ফোর-জির উন্নয়নে গুরুত্ব কম দিয়ে তারা ফাইভ-জির দিকে যাবে। এতে সাধারণ গ্রাহকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এ বিষয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, আমরা গোটা দেশকে হঠাৎ করেই ফাইভ-জির আওতায় নিয়ে আসতে চাই না। পর্যায়ক্রমে সেটি করতে গিয়ে যেখানে যা প্রয়োজন আমরা সেটাই করব। ২০২৩ সালের মধ্যে বিভাগীয় শহরে এবং ২০২৬ সালের মধ্যে ইউনিয়ন পর্যায়ে ফাইফ-জির বিস্তার আমরা ঘটাতে চাই।

অপারেটরদের অনাগ্রহ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, লাভজনক না হলে কেউ বিনিয়োগ করবে না এটাই স্বাভাবিক। আমি তাদের বলেছি, শতভাগ ফোর-জি বিটিএস আগে তৈরি করতে। একই নেটওয়ার্কই ফাইভ-জিতে ব্যবহারের উপযুক্ত প্রযুক্তি উদ্ভাবনের জন্য চেষ্টা করছে চীনা প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে। আমি এ নিয়ে আশাবাদী। এর আগে টেলিটক ও বিটিসিএল ফাইভ-জির বাজার তৈরি করবে। পরে অন্য অপারেটররাও আসবে।

এসআর

More from বাংলাদেশMore posts in বাংলাদেশ »
More from বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিMore posts in বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি »
Mission News Theme by Compete Themes.