
সিওল, ২০ এপ্রিল – বাণিজ্য ও কৌশলগত সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে তিন দিনের সফরে ভারতে পৌঁছেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ুং। সোমবার থেকে শুরু হওয়া এই সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তার দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এই বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং কৌশলগত সহযোগিতার নানা গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। দুই দেশই ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।
গত আট বছরের মধ্যে এটিই দক্ষিণ কোরিয়ার কোনো প্রেসিডেন্টের প্রথম ভারত সফর। নয়াদিল্লিতে কোরীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট লি জানান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ভারতের বর্তমান অর্থনৈতিক সহযোগিতা প্রত্যাশার তুলনায় অনেকটা কম। তিনি এই সম্পর্ককে আগামীতে সম্পূর্ণ ভিন্ন মাত্রায় নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ব্যক্ত করেন। দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা উই সুং ল্যাক জানিয়েছেন, বৈঠকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অর্থায়ন ও প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাবে।
পাশাপাশি বিদ্যমান বাণিজ্য চুক্তি আধুনিকায়নের বিষয়েও আলোচনা হতে পারে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছর দুই দেশের মোট বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ২৫ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার রপ্তানি ছিল ১৯ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার এবং আমদানি ছিল ৬ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার। বর্তমানে বিশ্ব পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সাপ্লাই চেইনের অস্থিরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে দুই দেশ আরও ঘনিষ্ঠ কৌশলগত অংশীদারে পরিণত হচ্ছে।
বিশেষ করে ইরান যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট অর্থনৈতিক চাপের মুখে জ্বালানি ও কাঁচামাল সরবরাহে ভারতের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়িয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। গত বছর দক্ষিণ কোরিয়ার আমদানিকৃত ন্যাফথার প্রায় ৮ শতাংশ ভারত থেকে সরবরাহ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জাহাজ নির্মাণ শিল্পও দুই দেশের সহযোগিতার একটি বড় ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে। ভারত সফর শেষে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ুং ভিয়েতনামে যাবেন।
এস এম/ ২০ এপ্রিল ২০২৬












Be First to Comment