Notice: Function _load_textdomain_just_in_time was called incorrectly. Translation loading for the matomo domain was triggered too early. This is usually an indicator for some code in the plugin or theme running too early. Translations should be loaded at the init action or later. Please see Debugging in WordPress for more information. (This message was added in version 6.7.0.) in /home/gbtnews/public_html/wp-includes/functions.php on line 6131
পর্যালোচনা ছাড়াই জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ অনুমোদনের দাবি – GBTnews Bangla Press "Enter" to skip to content

পর্যালোচনা ছাড়াই জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ অনুমোদনের দাবি

ঢাকা, ৯ মার্চ – পর্যালোচনা ছাড়াই জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ সংসদে অনুমোদনের দাবি জানিয়েছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। এই দাবির সঙ্গে একমত প্রকাশ করেছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান মইনুল ইসলাম চৌধুরীসহ অন্যান্য কমিশনাররা।

তাঁরা জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি হওয়া এই অধ্যাদেশের ত্রুটি ও অসম্পূর্ণতাগুলো ঠিক করার জন্য আগামী দিনে তাঁরা কাজ করবেন। তবে এই মুহূর্তে অধ্যাদেশে যেটুকু আছে, তাকে সুরক্ষা দেওয়াটাই মূল কর্তব্য। সোমবার ৯ মার্চ দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে মানবাধিকার কমিশন কার্যালয়ে নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের এক মতবিনিময় সভায় এই দাবি ওঠে।

সভায় স্বাগত বক্তব্যে কমিশনের চেয়ারম্যান মইনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, বর্তমান কমিশনারদের অতীত কাজ, ব্যক্তিগত অবস্থান এবং জনজীবনে তাঁদের ভূমিকা প্রমাণ করে যে আইন যত দূর অনুমতি দেবে, কমিশন তত দূর পর্যন্ত আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও সাহসের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। মানবাধিকার রক্ষার প্রশ্নে কমিশন নিষ্ক্রিয় থাকতে চায় না। তবে কমিশনের সদিচ্ছা যতই থাকুক না কেন, তার কার্যকারিতা অনেকখানি নির্ভর করে আইনগত ভিত্তির ওপর। তাই জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের অধ্যাদেশটি যদি বর্তমান কার্যকর রূপে বহাল থাকে, তাহলে এটি দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হবে।

সভায় এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশের আহ্বায়ক দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের অধ্যাদেশটি যেমন আছে, তেমনভাবেই অবশ্যই অনুমোদিত হওয়া প্রয়োজন। অধ্যাদেশটি পাস হওয়ার পর মানবাধিকার কমিশনকে কার্যকর করতে হলে আরও কয়েকটি সম্পূরক সুরক্ষার জায়গায় যেতে হবে। এর জন্য প্রথমে বর্তমান যে কমিশন আছে, তার ধারাবাহিকতার ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া দরকার।

এই কমিশন বিগত সরকারের শেষ সময়ে তৈরি করা হয়েছে। নতুন রাজনৈতিক সরকারকে এটি গ্রহণ করতে হবে। কমিশনকে শক্তিশালী করার জন্য সংবিধানে থাকা ন্যায়পাল নিযুক্ত করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে হওয়া অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে তুলনামূলকভাবে ভালো আইন হলো মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ। তবে এতে কিছু অপ্রাপ্তি রয়েছে। যেমন আর্থিক স্বাধীনতার বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি। তবে পর্যালোচনার কাজ শুরু হলে বিভিন্ন প্রতিকূলতা আসতে পারে।

যেটুকু পাওয়া গেছে, সেটুকুও হারানোর সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। এই কারণে অধ্যাদেশটি পর্যালোচনা ছাড়াই সংসদে পাস করাতে তিনি নতুন সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা বলেন, যাঁরা সবচেয়ে প্রান্তিক অবস্থানে থাকেন, তাঁরাই মানবাধিকার লঙ্ঘনের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী। তাই জেলা পর্যায়ের মানবাধিকার কমিটি গঠন করতে হবে এবং সেগুলোকে নিয়মিত তদারকিতে রাখতে হবে।

মানবাধিকারবিষয়ক আলোচনায় তিন পার্বত্য জেলার কথা অনেক সময় বলা হয় না। এই বৈষম্যের অবসান ঘটাতে হবে। দেশের প্রতিটি জেলার মানবাধিকার বাস্তবায়নে যেন মানবাধিকারকর্মীরা কাজ করতে পারেন, সেই পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। নিজেরা করি সংগঠনের সমন্বয়কারী খুশী কবির বলেন, মানবাধিকার রক্ষা করার জন্য কমিশনকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।

শুধু কমিশন গঠন করার জন্য কমিশন না হয়ে এটি যেন সত্যিকার অর্থে ভালো ভূমিকা পালন করে। যে আইন পাস করা হবে, সেটি যেন কেবল কাগুজে বাঘ হয়ে না থাকে।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কমিশনার নাবিলা ইদ্রিসের সঞ্চালনায় এই সভায় আরও বক্তব্য দেন মানবাধিকার কমিশনের কমিশনার মো. নুর খান, অধ্যাপক মো. শরীফুল ইসলাম ও ইলিরা দেওয়ান, নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন, আদিবাসী অধিকারকর্মী দিপায়ন খীসা, স্বদেশ সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক মাধব চন্দ্র দত্ত, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের উপদেষ্টা মাবরুক মোহাম্মদ, কাপেং ফাউন্ডেশনের ফাল্গুনী ত্রিপুরা প্রমুখ।

এম ম/ ৯ মার্চ ২০২৬



More from বাংলাদেশMore posts in বাংলাদেশ »
Mission News Theme by Compete Themes.