Press "Enter" to skip to content

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে আরও সক্রিয় হচ্ছে ভারত: জয়শঙ্কর



রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ

দিল্লি, ০৬ অক্টোবর-রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যকার সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভারত আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে বলে জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি জানান, কৃষ্ণসাগরে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা এবং জ্বালানি নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে নয়াদিল্লি দুই পক্ষের সঙ্গেই আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) মার্কিন গণমাধ্যম ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি এক নিরাপত্তা সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর জানান, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ভারত শুধু শান্তির পক্ষে অবস্থান নেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং যুদ্ধ বন্ধে ‘কিছুটা বেশি সক্রিয়’ ভূমিকা নিতে শুরু করেছে।

এতদিন রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের কৌশলগত ও সামরিক সম্পর্কের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নয়াদিল্লি এই যুদ্ধ নিয়ে সতর্ক ও ভারসাম্যপূর্ণ নীতি অনুসরণ করেছে। তবে নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে এ বিষয়ে ভারতের অবস্থানে দৃশ্যমান পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, কৃষ্ণসাগরে নিরাপদে জাহাজ চলাচলের মতো গুরুত্বপূর্ণ মানবিক ও অর্থনৈতিক বিষয় নিয়ে দুই দেশের সঙ্গে ভারতের আলোচনা শুরু হয়েছে। পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং একে অপরের ওপর হামলা এড়ানোর বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা চলছে।

যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ভারত সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানিয়ে আসছে। তবে জাতিসংঘে রাশিয়াবিরোধী প্রস্তাবগুলোতে ভোট দেওয়া থেকে বিরত থেকেছে দেশটি এবং সরাসরি ক্রেমলিনের সমালোচনাও এড়িয়ে গেছে।

গত আগস্টের শেষে কিরগিজস্তানে অনুষ্ঠিত সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনের শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে এক বৈঠকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

জয়শঙ্কর বলেন, যুদ্ধ বন্ধ করতে আলোচনা ও কূটনীতি অপরিহার্য। তিনি আরও বলেন, সময়ের সঙ্গে রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের সম্পর্কও বিকশিত হয়েছে। এখন এই সম্পর্ক জ্বালানি, মহাকাশ ও বাণিজ্যের মতো ক্ষেত্রেও বিস্তৃত হয়েছে।

সেপ্টেম্বরে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে মোদি যখন পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, তখন দুই নেতা পারস্পরিক সম্পর্ক আরও গভীর করার অঙ্গীকার করেন। ওয়াশিংটন মস্কো থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে নয়াদিল্লির ওপর চাপ সৃষ্টি করলেও দুই নেতার ওই সাক্ষাৎ তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়টি স্পষ্ট করে।

ভারতের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার হওয়ার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করতে নয়াদিল্লির ওপর চাপ দেওয়ার চেষ্টা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। শুরুতে ভারতীয় তেল কেনা কিছুটা কমলেও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের সময় তা আবার বেড়ে যায়।

এ ছাড়া রাশিয়া ভারতের প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ। ভারতীয় সামরিক বাহিনীর কাছে রাশিয়ায় তৈরি শত শত যুদ্ধবিমান এবং বেশ কয়েকটি এস-৪০০ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। ২০২৫ সালের মে মাসে পাকিস্তানের সঙ্গে চার দিনের সংঘাতের সময় ভারত এসব ব্যবস্থার ব্যবহার করেছিল।

এস এম/ ০৬ অক্টোবর ২০২৬

More from আন্তর্জাতিকMore posts in আন্তর্জাতিক »
Mission News Theme by Compete Themes.