Press "Enter" to skip to content

সামরিক সমাধানে কোনো পথ নেই: যুক্তরাষ্ট্রকে আরাগচির চরম হুঁশিয়ারি



তেহরান, ০৪ অক্টোবর – তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার সামরিক রক্তক্ষয় এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এখন চরম সীমানায় পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রকে স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ার করে দিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলা এই যুদ্ধে কোনো ‘সামরিক সমাধান’ নেই। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র বা তাদের মিত্ররা নতুন করে সামরিক সংঘাত কিংবা কঠোর নিষেধাজ্ঞার পথ বেছে নিলে তার পরিণতি আরও ভয়ংকর হবে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।

রোববার (৪ অক্টোবর) রাজধানী তেহরানে বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের এক সমাবেশে আব্বাস আরাগচি এই কড়া বক্তব্য দেন বলে খবর প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা এএফপি।

“জবাব হবে আরও কঠোর”: রাষ্ট্রদূতদের সমাবেশে ইরানের বার্তা

বিদেশি কূটনীতিবিদ ও রাষ্ট্রদূতদের সামনে আব্বাস আরাগচি বলেন, “আমাদের শত্রুরা যদি আবারও সামরিক সংঘাতের পথ বেছে নেওয়ার ভুল করে, তবে তাদের জন্য আমাদের জবাব হবে আগের চেয়েও অনেক বেশি কঠোর। আমরা আরও বিপুল শক্তি নিয়ে নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করব।”

তিনি দৃঢ়তার সাথে তুলে ধরেন যে, সামরিক শক্তি প্রদর্শন কিংবা অর্থনৈতিক অবরুদ্ধতার মাধ্যমে ইরানকে নতিস্বীকার করানো অসম্ভব। “এখানে সামরিক বা নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞানির্ভর সমাধান সম্ভব নয়। কেবল সমতা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক আলোচনাই পারে এই সংঘাতের অবসান ঘটাতে,” যোগ করেন আরাগচি।

সংঘাতের কেন্দ্রে এখন ‘হরমুজ প্রণালি’ ও সাতটি শর্ত

গত সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ইরান ও আমেরিকার প্রতিনিধিদের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা হলেও তা চূড়ান্ত অচলাবস্থায় রূপ নেয়। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য সাতটি শর্ত দিয়েছে তেহরান।

ইরানের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে অবিলম্বি ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ঘোষণা।
  • বিদেশে বাজেয়াপ্ত থাকা ইরানের সমস্ত সম্পদ মুক্ত করা।
  • তেল রপ্তানির ওপর থেকে সমস্ত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার।
  • মার্কিন নৌ-অবরোধের সম্পূর্ণ অবসান।

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের এই প্রস্তাবসমূহ একবাক্যে প্রত্যাখ্যান করেছেন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই নিশ্চিত করেছেন, মার্কিন পক্ষ আলোচনার টেবিলে আবারও ইরানের পারমাণবিক প্রকল্পকে জুড়ে দেওয়ার চেষ্টা করছিল, যা তেহরান সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে।

৭ মাসের যুদ্ধ: কীভাবে বদলে গেল সংঘাতের গতিপথ?

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিনে তেহরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি সমন্বিত হামলা দিয়ে এই সংঘাতের সূচনা হয়। যুদ্ধের শুরুর দিকেই বিমান হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ একাধিক শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব।

পরবর্তীতে গত জুনে একটি সমঝোতা স্মারকের অধীনে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি। মেয়াদী যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার পর ইসরায়েল দৃশ্যপট থেকে কিছুটা সরে গেলেও এখন মূল লড়াই দাঁড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মুখোমুখি অবস্থানে। বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণের চাবিকাঠি এখন স্থবির হয়ে পড়া ‘হরমুজ প্রণালি’-র ওপর নির্ভর করছে। ১ সেপ্টেম্বরের পর যুক্তরাষ্ট্রে ইরানে নতুন করে বিমান হামলা না চালালেও সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে বিপুল পরিমাণ অতিরিক্ত সামরিক বহর ও যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করতে শুরু করেছে ওয়াশিংটন।

এনএন/ ০৪ অক্টোবর ২০২৬

More from আন্তর্জাতিকMore posts in আন্তর্জাতিক »
Mission News Theme by Compete Themes.