Press "Enter" to skip to content

লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা করছে হুথিরা



সানা, ২৯ জুলাই – লোহিত সাগরের দক্ষিণাঞ্চল দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর বাধ্যতামূলক শুল্ক আরোপের একটি বড় পরিকল্পনা করছে ইয়েমেনের সশস্ত্রগোষ্ঠী হুথি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্স বিভিন্ন আঞ্চলিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, মূলত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মানদেব প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপর এই ফি বা শুল্ক আদায়ের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে গোষ্ঠীটি।

চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ রুট ও পণ্যবাহী নৌযানের ওপর নিয়ন্ত্রণ জোরদার করার অংশ হিসেবে হুথিদের এই নতুন পদক্ষেপকে দেখা হচ্ছে। তবে এই শুল্কব্যবস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে কবে থেকে কার্যকর করা হবে সেই বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা এখনো জানা যায়নি।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তেহরান সফর করেন হুথির শীর্ষ নেতারা। সেখানে উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে ইরানি কর্মকর্তারা বাব আল-মানদেব দিয়ে জাহাজ চলাচলের ওপর শুল্ক আদায়ের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন।

এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো আন্তর্জাতিক জলসীমায় শুল্ক আদায়ের সংস্কৃতিকে স্বাভাবিক করা এবং একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধি করা। তবে এই পরিকল্পনায় চীনের জাহাজগুলোকে বিশেষ ছাড় দেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে।

হুথিরা ইতিমধ্যে লোহিত সাগরে চীনা তেলবাহী ট্যাংকারগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ইয়েমেনে এই শুল্ক নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ গঠনের লক্ষ্যে তেহরান থেকে বিশেষজ্ঞ ও সামরিক উপদেষ্টারা ইতিমধ্যে দেশটিতে পৌঁছেছেন বলে জানা গেছে।

তবে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আফরা আল-জউবা এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি জানান, হুথিরা লোহিত সাগরে নিজেদের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে জোরপূর্বক অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছে।

যদিও আন্তর্জাতিক নৌশক্তিগুলো বর্তমানে জাহাজগুলোকে সুরক্ষা দিতে হিমশিম খাচ্ছে, তবুও ইউরোপীয় ও পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রতিবাদের মুখে পড়তে পারে এই উদ্যোগ। হুথিদের এই পদক্ষেপ প্রতিবেশী দেশ সৌদি আরবের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

হরমুজ প্রণালির বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত এই রুটটি বন্ধ হলে বা সীমিত হলে দেশটিতে তীব্র জ্বালানিসংকট দেখা দিতে পারে। সম্প্রতি সৌদি আরবের জিযান বন্দরের কাছে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনার পর এই উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর আগে নির্দিষ্ট কিছু শিপিং এজেন্সির কাছ থেকে নিরাপদ পারাপারের বিনিময়ে প্রতি মাসে প্রায় ১৮ কোটি ডলার শুল্ক আদায়ের অভিযোগ রয়েছে হুথিদের বিরুদ্ধে। বৈশ্বিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বাব আল-মানদেব প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ বিকল্প পথে পণ্য পাঠাতে অনেক বেশি সময় ও ব্যয় বৃদ্ধি পায়।

এস এম/ ২৯ জুলাই ২০২৬



More from আন্তর্জাতিকMore posts in আন্তর্জাতিক »
Mission News Theme by Compete Themes.