Press "Enter" to skip to content

ফ্রান্সে ইতিহাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা: দাবদাহ ও পানিতে ডুবে অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু



প্যারিস, ২৪ জুন – ইউরোপজুড়ে বইছে ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী দাবদাহ। এই চরম আবহাওয়ার কবলে পড়ে ফ্রান্সে আবহাওয়া রেকর্ডের ইতিহাসে উষ্ণতম দিন অতিবাহিত হয়েছে। তীব্র গরম থেকে রক্ষা পেতে বিভিন্ন স্থানে সাঁতার কাটতে গিয়ে গত কয়েক দিনে অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।

ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু এই পরিস্থিতিকে একটি মারাত্মক বিপর্যয় হিসেবে বর্ণনা করে জানিয়েছেন, মৃতদের মধ্যে একটি বড় অংশই তরুণ। উদ্ভূত সংকট মোকাবিলায় জরুরি মন্ত্রিসভা বৈঠক ডেকেছে ফরাসি সরকার। ফ্রান্সের জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা মেতেও-ফ্রান্স জানিয়েছে, ১৯৪৭ সালে নিয়মতান্ত্রিকভাবে আবহাওয়ার তথ্য সংরক্ষণ শুরু হওয়ার পর এবারের তাপমাত্রা সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে।

দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় পিসোস এলাকায় তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ৪৪.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া বোর্দোর মতো বড় শহরগুলোতে তাপমাত্রা ৪২.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস স্পর্শ করেছে। দেশের অর্ধেকেরও বেশি বিভাগে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। এমনকি রাতের তাপমাত্রাও আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।

তীব্র গরমের প্রভাবে ফ্রান্সের বিখ্যাত পর্যটন কেন্দ্রগুলোর সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। দর্শনার্থীদের অতিরিক্ত ভিড় ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ল্যুভর মিউজিয়াম তাদের দৈনিক কর্মঘণ্টা দুই ঘণ্টা কমিয়ে দিয়েছে। আইফেল টাওয়ার কর্তৃপক্ষও নির্ধারিত সময়ের আট ঘণ্টা আগেই স্মৃতিস্তম্ভটি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

পরিবহন ও জ্বালানি খাতেও এই দাবদাহের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। রেললাইন অতিরিক্ত উত্তপ্ত হয়ে ওঠার ঝুঁকিতে থাকায় প্যারিস অঞ্চলের বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ পরিহার করতে এবং বাড়ি থেকে কাজ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া গোলফেচ পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি চুল্লি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

নদী থেকে নেওয়া শীতলীকরণ পানির তাপমাত্রা নিরাপদ সীমার ওপরে চলে যাওয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। বর্তমানে প্রায় ১,৩৫০টি স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে এবং গাড়ির ভেতর আটকে থেকে দুই শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ফ্রান্স ছাড়াও যুক্তরাজ্য, ইতালি, জার্মানি এবং স্পেন এই তীব্র দাবদাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

লন্ডনের বেশ কিছু স্কুল আগেভাগে ছুটি দেওয়া হয়েছে। জলবায়ু বিষয়ক এক অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করে বলেছেন, জীবাশ্ম জ্বালানির অতিব্যবহারের কারণেই বিশ্ব আজ এই সংকটের মুখোমুখি। ইতালির মিলান ও রোমসহ ১৫টি শহরে রেড অ্যালার্ট জারি রয়েছে।

স্পেনের আলমেরিয়া প্রদেশে টানা তিন রাত তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রির নিচে নামেনি। আবহাওয়া বিজ্ঞানীদের মতে, উত্তর আফ্রিকা ও সাহারা মরুভূমি থেকে আসা উত্তপ্ত বায়ুপ্রবাহের কারণেই পুরো ইউরোপে এই স্থবির পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

এস এম/ ২৪ জুন ২০২৬



More from আন্তর্জাতিকMore posts in আন্তর্জাতিক »
Mission News Theme by Compete Themes.