
ওয়াশিংটন, ১৮ জুন – ফ্রান্সে আয়োজিত জি৭ শীর্ষ সম্মেলনে নিজেকে ‘বস’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্ব অর্থনীতির নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি বিশেষ অধিবেশনে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রধানদের উপস্থিতিতে তিনি এই মন্তব্য করেন। তবে ঠিক কোন প্রেক্ষাপটে তিনি নিজেকে বস দাবি করেছেন সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো উপস্থিত বিশ্ব নেতাদের কেউ তার এই বক্তব্যের প্রতিবাদ করেননি। বরং ইরানের সঙ্গে আমেরিকার সাম্প্রতিক সংঘাত এবং পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে যারা আগে ট্রাম্পের সমালোচনা করেছিলেন তারা এবার নমনীয় অবস্থান গ্রহণ করেছেন।
সম্মেলনে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি উপস্থিত ছিলেন। ১৫ জুন ফ্রান্সে শুরু হওয়া এই তিন দিনব্যাপী সম্মেলন বুধবার পর্যন্ত চলবে। ইতোমধ্যে ট্রাম্পের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে এবং একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে।
বুধবারের আলোচনায় মূলত দুষ্প্রাপ্য খনিজ ও বৈশ্বিক অর্থনীতির ভারসাম্যহীনতা প্রাধান্য পায়। পাশাপাশি রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর থেকে পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়।
ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালীতে পণ্য পরিবহণে বাধা সৃষ্টির পর আমেরিকা যে কঠোর নীতি গ্রহণ করেছিল তার সমালোচনা করেছিল ইউরোপ। তবে বর্তমানে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটেছে। আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আমেরিকার সঙ্গে ইরানের একটি আনুষ্ঠানিক সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এই চুক্তির ফলে পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ফিরে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মের্ৎজ এই সফরে ট্রাম্পকে ৪৭ নম্বর সম্বলিত একটি ফুটবল জার্সি উপহার দেন। এদিকে ইউক্রেন ইস্যুতেও ইউরোপীয় নেতাদের সুরে পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জানিয়েছেন যে রাশিয়ার প্রতি ট্রাম্পের অবস্থান বর্তমানে অনেক বেশি কঠোর যা যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।
এস এম/ ১৮ জুন ২০২৬












Be First to Comment