
দামেস্ক, ২৫ এপ্রিল – ইসরায়েলের সকল প্রকার আগ্রাসন মোকাবিলায় এবং কার্যকর দায়িত্ব পালনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি জোর আহ্বান জানিয়েছেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা। একই সঙ্গে তিনি ১৯৭৪ সালের ডিসএনগেজমেন্ট চুক্তিতে ফিরে যাওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ওই চুক্তিতে গোলান মালভূমি সিরিয়ার অধিকারে থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে অঞ্চলটি ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
শুক্রবার গ্রিক সাইপ্রাস প্রশাসনে আয়োজিত ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি অনানুষ্ঠানিক বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
আল-শারা উল্লেখ করেন যে সিরিয়ার ভূখণ্ডে ইসরায়েলের সামরিক ও রাজনৈতিক পদক্ষেপগুলো আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তিনি দাবি করেন যে ১৯৭৪ সালের চুক্তি পুনর্বহাল হলে মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।
ইউরোপের সঙ্গে সিরিয়ার সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন যে সিরিয়ার যেমন ইউরোপকে প্রয়োজন তেমনি ইউরোপের জন্যও সিরিয়া গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও জানান যে সিরিয়ার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ইউরোপীয় সমর্থন ইসরায়েলি আগ্রাসন হ্রাসে সহায়ক হবে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ভূমিকা রাখবে।
উল্লেখ্য ১৯৭৩ সালের আরব ও ইসরায়েল যুদ্ধের পর ১৯৭৪ সালের ৩১ মে দুই দেশের মধ্যে ডিসএনগেজমেন্ট এগ্রিমেন্ট স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির মূল লক্ষ্য ছিল যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা এবং গোলান হাইটস এলাকায় জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েনের মাধ্যমে বাফার জোন তৈরি করা। সিরিয়ার দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থিত প্রায় ১৮০০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই পাথুরে মালভূমিটি সামরিক ও কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আগামী মাসে সিরিয়া ও ইউরোপের মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতা বাড়াতে আরও উচ্চ পর্যায়ের আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে যা এই অঞ্চলের শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হতে পারে।
এনএন/ ২৫ এপ্রিল ২০২৬












Be First to Comment