
উপসাগরীয় অঞ্চল, ২৩ মার্চ – যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে ব্যাপক পরিসরে হামলা শুরু করেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানও উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোতে নিজেদের সামরিক তৎপরতা জোরদার করেছে।
তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্রে আঘাত হানা হলে ইসরায়েলসহ এই অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের জ্বালানি স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালানো হবে। সোমবার ইসরায়েলি বাহিনী জানিয়েছে তারা তেহরানের বিভিন্ন অবকাঠামো লক্ষ্য করে বিস্তৃত হামলা শুরু করেছে। তবে এই বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। একই সময়ে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান ব্র্যাড কুপার অভিযোগ করেছেন যে ইরান জনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করছে।
যদিও তিনি এই দাবির পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। মার্কিন বাহিনী জানিয়েছে তারা ইরানের কুম প্রদেশে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের সাথে সংশ্লিষ্ট একটি ড্রোন ও বিমান যন্ত্রাংশ তৈরির কারখানায় হামলা চালিয়েছে। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে তেহরানে বিশেষ করে শহরের পূর্বাঞ্চলে অভূতপূর্ব মাত্রায় বিস্ফোরণ ঘটেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ওই এলাকায় ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়।
দেশটির ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে খোররামাবাদে একটি আবাসিক ভবনে হামলায় এক শিশু নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাতে জানা যায় তাবরিজ শহরে পৃথক হামলায় অন্তত ছয়জন প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়াও বান্দার আব্বাস, ইসফাহান, কারাজ এবং আহভাজসহ বিভিন্ন শহরে বড় ধরনের বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। আহভাজে একটি হাসপাতালও হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির তথ্যমতে হামলায় প্রায় ৮০ হাজারের বেশি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অপরদিকে ইসরায়েলেও রাতভর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত ছিল। ইসরায়েলের দক্ষিণ এবং মধ্যাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ এসে পড়ে।
হিজবুল্লাহর সম্পৃক্ততার আশঙ্কায় উত্তর ইসরায়েলে একযোগে সাইরেন বেজে ওঠে। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার সময়সীমা বাড়িয়ে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন দুই দেশের মধ্যে গঠনমূলক আলোচনা চলমান রয়েছে। তবে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের কোনো জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালায় তবে মার্কিন ঘাঁটিতে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সমস্ত অবকাঠামোসহ সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক ও শিল্প স্থাপনাগুলোতে ভয়াবহ হামলা চালানো হবে।
ইরানের প্রতিরক্ষা পরিষদও সতর্ক করে বলেছে দক্ষিণ উপকূল বা কোনো দ্বীপে হামলা হলে সমুদ্রপথে মাইন পুঁতে উপসাগরীয় রুট পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হবে। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে এই সংঘাতের মধ্যে এখন পর্যন্ত ইরানে নিহতের সংখ্যা দেড় হাজার ছাড়িয়েছে। অন্যদিকে ইসরায়েলে ইরানি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৫ জন। বিশ্ববাজারেও এই ভয়াবহ যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার প্রধান ফাতিহ বিরোল সতর্ক করে বলেছেন মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুতর যা ১৯৭০ এর দশকের জ্বালানি সংকটের চেয়েও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
এদিকে আবুধাবির আল ধাফরা ঘাঁটির কাছে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধের সময় ছিটকে পড়া ধ্বংসাবশেষে এক ভারতীয় নাগরিক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। একই সাথে বাহরাইন এবং কুয়েতে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়।
সৌদি আরব জানিয়েছে তারা রিয়াদগামী একটি ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে ভূপাতিত করেছে এবং দেশের পূর্বাঞ্চলে একটি ড্রোন ধ্বংস করেছে।
এ এম/ ২৩ মার্চ ২০২৬










