
প্যারিস, ১৬ মার্চ – ফ্রান্সের ২০২৬ সালের পৌর নির্বাচনের প্রথম দফাতেই উত্তর প্যারিসের উপশহর সাঁ দনি থেকে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণ নাহিদুল মোহাম্মদ। অতি বামপন্থি রাজনৈতিক দল লা ফ্রঁস আঁসুমিজ বা এলএফআই এর প্যানেল থেকে প্রার্থী হয়ে তিনি এই বিজয় অর্জন করেন।
তাদের প্যানেল ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পাওয়ায় দ্বিতীয় দফার ভোটের আর কোনো প্রয়োজন হয়নি। রবিবার ১৫ মার্চ অনুষ্ঠিত ফ্রান্সের পৌর নির্বাচনের প্রথম দফার এই ফলাফলে দেশটির স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন এক রাজনৈতিক সমীকরণের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বিভিন্ন শহরে অতি বামপন্থি এলএফআই এবং কট্টর ডানপন্থি ন্যাশনাল র্যালি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখিয়েছে।
প্যারিসের সর্বন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত নাহিদুল মোহাম্মদের পৈতৃক নিবাস বাংলাদেশের সুনামগঞ্জ জেলায়। নির্বাচনে জয়ের পর তিনি জানান যে ফ্রান্সের স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন প্রজন্মের অভিবাসী বংশোদ্ভূত নাগরিকদের অংশগ্রহণ ক্রমশ বাড়ছে। এই বিজয় তাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা এবং এটি স্থানীয় সমাজে বাংলাদেশি কমিউনিটির উপস্থিতিকে আরও দৃঢ় করবে বলে তিনি মনে করেন।
দেশজুড়ে মোট ৩৪ হাজার ৮৭৫টি কমিউন বা শহরে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল প্রায় ৫৬ শতাংশ। এটি ২০২০ সালের মহামারিকালীন নির্বাচনের তুলনায় বেশি হলেও ২০১৪ সালের তুলনায় কিছুটা কম। আগামী ২২ মার্চ দ্বিতীয় দফার ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। রাজধানী প্যারিসে ফরাসি সোশ্যালিস্ট পার্টি এবং বামপন্থি জোটের প্রার্থী এমানুয়েল গ্রেগোয়া প্রায় ৩৭ দশমিক ৯ শতাংশ ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছেন।
ডানপন্থি লে রিপাবলিকান সমর্থিত প্রার্থী রাশিদা দাতি পেয়েছেন প্রায় ২৫ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট। অন্যদিকে এলএফআই প্রার্থী সোফিয়া শিকিরু প্রায় ১২ শতাংশ ভোট নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন এবং দ্বিতীয় দফায় বামপন্থি ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন। এর ফলে প্যারিসে চার প্রার্থীর মধ্যে তীব্র লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর লিয়োঁতেও তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যাচ্ছে।
সেখানে পরিবেশবাদী দলের বর্তমান মেয়র গ্রেগরি দুশে এবং তার প্রতিদ্বন্দ্বী জ্যঁ মিশেল আউলাস উভয়েই প্রায় ৩৬ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট পেয়ে সমানে সমানে অবস্থান করছেন। দক্ষিণের বড় শহর মার্সেইয়ে বর্তমান মেয়র বেনোয়া পায়াঁ সামান্য ব্যবধানে কট্টর ডানপন্থি প্রার্থী ফ্রঁ আলিসিওর বিরুদ্ধে এগিয়ে আছেন। তাদের ভোটের হার যথাক্রমে প্রায় ৩৫ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ৩৫ দশমিক ১ শতাংশ। উত্তরের শহর লিলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র আকার ধারণ করেছে।
সেখানে সোশ্যালিস্ট পার্টির প্রার্থী সামান্য এগিয়ে থাকলেও এলএফআই এর প্রার্থী খুব কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছেন এবং পরিবেশবাদী দল তৃতীয় স্থানে রয়েছে। প্রথম দফার নির্বাচনে অতি বামপন্থি দল লা ফ্রঁস আঁসুমিজ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখিয়েছে। দলটির নেতা জঁ লুক মেলনশোঁর নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এই রাজনৈতিক শক্তি কয়েকটি শহরে বেশ শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে।
উত্তর ফ্রান্সের রুবে শহরে এলএফআই এর প্রার্থী দাভিদ গিরো প্রায় ৪৬ শতাংশ ভোট পেয়ে স্পষ্টভাবে এগিয়ে রয়েছেন এবং দ্বিতীয় দফায় জয়ের সম্ভাবনা তৈরি করেছেন।
অন্যদিকে ২০১৯ থেকে ২০২০ সময়ে ফ্রান্সে শক্তিশালী পরিবেশবাদী আন্দোলন তৈরি করা ইউরোপ ইকোলজি লে ভের এবারের নির্বাচনে বেশ কয়েকটি শহরে চাপের মুখে পড়েছে।
জার্মান সীমান্তবর্তী স্ত্রাসবুর শহরে পরিবেশবাদী মেয়র পিছিয়ে পড়েছেন। বোর্দো শহরে ব্যবধান খুবই কম এবং লিল শহরে তারা তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছে।
এ এম/ ১৬ মার্চ ২০২৬










