Notice: Function _load_textdomain_just_in_time was called incorrectly. Translation loading for the matomo domain was triggered too early. This is usually an indicator for some code in the plugin or theme running too early. Translations should be loaded at the init action or later. Please see Debugging in WordPress for more information. (This message was added in version 6.7.0.) in /home/gbtnews/public_html/wp-includes/functions.php on line 6131
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী, পরিস্থিতি সামাল দিতে দেশে রেশনিং ও অভিযান – GBTnews Bangla Press "Enter" to skip to content

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী, পরিস্থিতি সামাল দিতে দেশে রেশনিং ও অভিযান

ঢাকা, ৯ মার্চ – মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে প্রতি ব্যারেল জ্বালানি তেলের মূল্য ১১৪ ডলার অতিক্রম করেছে। এই ঊর্ধ্বমুখী মূল্যের প্রভাব থেকে অভ্যন্তরীণ বাজারকে সুরক্ষিত রাখতে দক্ষিণ কোরিয়া সরকার নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

প্রায় তিন দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো দেশটি পেট্রোলিয়ামজাত জ্বালানির ওপর সর্বোচ্চ মূল্যসীমা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একটি জরুরি মন্ত্রিসভা বৈঠকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং জানান যে জ্বালানির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব থেকে ভোক্তা ও শিল্প খাতকে রক্ষা করতে সরকার দ্রুত এবং কঠোরভাবে এই ব্যবস্থা কার্যকর করবে।

সাধারণত দক্ষিণ কোরিয়ায় জ্বালানির দাম আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে ওঠানামা করে এবং সরকার কর সমন্বয় বা ভর্তুকির মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। তবে বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে এবার সর্বোচ্চ দাম নির্ধারণের পথে হেঁটেছে দেশটি। অন্যদিকে বাংলাদেশের জ্বালানি তেলের সার্বিক অবস্থাও নিবিড় পর্যালোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে বলে সরকার বারবার আশ্বাস দিচ্ছে।

তবে বাস্তবে দেশের বিভিন্ন স্থানে গ্রাহকদের তেল সংগ্রহ করতে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। অনেক সময় দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়েও মোটরসাইকেল বা ব্যক্তিগত গাড়ির চালকরা তেল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। গণপরিবহন এবং পণ্যবাহী যানবাহনগুলোও চাহিদামতো তেল পাচ্ছে না। মজুদ শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে অনেক পাম্প সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অবৈধভাবে তেল মজুদ করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। দেশে নিরবচ্ছিন্ন তেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

জ্বালানি তেলের মজুদ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে রাজধানীর বিভিন্ন পেট্রল পাম্পে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। জ্বালানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পরিচালিত এই বিশেষ অভিযানে রাজধানীর বেশ কয়েকটি ফিলিং স্টেশনের বর্তমান পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখা হয়।

অভিযানে দেখা যায় আসাদ গেট গাবতলী তেজগাঁও কল্যাণপুর এবং মহাখালী এলাকার কয়েকটি নির্দিষ্ট ফিলিং স্টেশনে সকল নিয়ম মেনে তেল সরবরাহ কার্যক্রম চালু রয়েছে। তবে তেজগাঁও মহাখালী কল্যাণপুর এবং দারুস সালামের কয়েকটি পাম্প তেলশূন্য অবস্থায় পাওয়া যায়। সিটি ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে তেলবাহী গাড়ি পৌঁছালেই তারা পুনরায় সরবরাহ শুরু করবে। এছাড়া মহাখালী এলাকার একটি ফিলিং স্টেশনে অকটেনের মজুদ থাকলেও পরিমাপে অসংগতি পাওয়ায় তা সংশোধন করে পুনরায় বিক্রির নির্দেশ দেওয়া হয়।

সামনে ঈদ থাকায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়বে কি না সেই বিষয়ে সড়ক পরিবহন রেল ও নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম আশ্বস্ত করেছেন। তিনি জানান যে ঈদুল ফিতরের আগে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। সম্ভাব্য সংকটের অজুহাতে ঈদ যাত্রা ব্যাহত করা বা পরিবহন ভাড়া বাড়ানোর কোনো সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না। বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেলের মজুদ সন্তোষজনক এবং নিরাপদ অবস্থায় রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

দীর্ঘমেয়াদি সংকট এড়াতে দেশে রবিবার ৮ মার্চ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে রেশনিং পদ্ধতিতে তেল বিক্রি শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন বা বিপিসি নির্দিষ্ট যানের ধরন অনুযায়ী তেলের পরিমাণ নির্ধারণ করে দিয়েছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী একটি মোটরসাইকেলে দিনে সর্বোচ্চ ২ লিটার এবং ব্যক্তিগত গাড়িতে ১০ লিটার তেল নেওয়া যাবে।

স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিকল বা জিপ এবং মাইক্রোবাস দিনে ২০ থেকে ২৫ লিটার তেল সংগ্রহ করতে পারবে। পিকআপ বা লোকাল বাস দিনে ৭০ থেকে ৮০ লিটার ডিজেল নিতে পারবে। অন্যদিকে দূরপাল্লার বাস ট্রাক কাভার্ড ভ্যান এবং কনটেইনার ট্রাকের ক্ষেত্রে এই পরিমাণ হবে ২০০ থেকে ২২০ লিটার। জ্বালানি তেল কেনার সময় গ্রাহককে অবশ্যই রসিদ সংগ্রহ করতে হবে এবং পরবর্তী সময় তেল কেনার সময় সেই পুরনো রসিদ প্রদর্শন করতে হবে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন যে দেশে তেলের কোনো অভাব নেই এবং পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সাময়িক অনিশ্চয়তা থেকে এই রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে যেন সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল মজুদ না করে।

এম ম/ ৯ মার্চ ২০২৬



More from আন্তর্জাতিকMore posts in আন্তর্জাতিক »
Mission News Theme by Compete Themes.