Press "Enter" to skip to content

ইকুয়েডরে মাদক ও সন্ত্রাস দমনে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সামরিক অভিযান শুরু

কিতো, ৫ মার্চ – মাদক পাচার নির্মূল এবং ইকুয়েডরের অভ্যন্তরে সক্রিয় নির্ধারিত সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে সরাসরি যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন কমান্ড বা সাউথকম।

বুধবার মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এই অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। ক্যারিবীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মাদক সম্রাটদের নেটওয়ার্ক গুঁড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই ওয়াশিংটন এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

ইকুয়েডরের নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে সাউথকম উল্লেখ করেছে যে দীর্ঘকাল ধরে যারা এই অঞ্চলের নাগরিকদের ওপর সন্ত্রাস, সহিংসতা ও দুর্নীতি চাপিয়ে দিয়েছে, সেই নার্কো সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে তারা এবার কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে।

ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থানের কারণে ইকুয়েডর বর্তমানে আন্তর্জাতিক মাদক পাচারকারীদের প্রধান ট্রানজিট রুটে পরিণত হয়েছে। বিশ্বের দুই বৃহত্তম কোকেন উৎপাদক দেশ কলম্বিয়া ও পেরুর মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত হওয়ায় প্রায় ৭০ শতাংশ মাদক এই দেশের রুট ব্যবহার করে পাচার করা হয়। মাদকের বাজার দখলকে কেন্দ্র করে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর রক্তক্ষয়ী সংঘাত ইকুয়েডরকে লাতিন আমেরিকার অন্যতম সহিংস অঞ্চলে পরিণত করেছে।

এই নার্কো সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলাতেই মূলত যুক্তরাষ্ট্র সেখানে তাদের সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে। ২০২৩ সালে ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়া ক্ষমতায় আসার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইকুয়েডরের নিরাপত্তা সম্পর্ক নতুন মাত্রা পায়।

যদিও গত বছর নভেম্বরের এক গণভোটে ইকুয়েডরের জনগণ বিদেশি সামরিক ঘাঁটি নিষিদ্ধ করার পক্ষে রায় দিয়েছিল, তবুও বিশেষ চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র সেখানে তাদের কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ পেয়েছে। বিশেষ করে মান্টা বন্দর নগরীতে অবস্থিত সাবেক ঘাঁটিতে মার্কিন বিমানবাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে এবং ড্রোন ও নজরদারি বিমানের মাধ্যমে পাচারকারীদের অবস্থান শনাক্ত করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই অভিযান কেবল ইকুয়েডরের অভ্যন্তরীণ শান্তি রক্ষার বিষয় নয় বরং এটি দক্ষিণ আমেরিকায় মার্কিন আধিপত্য পুনর্প্রতিষ্ঠার একটি কৌশল।

তবে এই অঞ্চলে সরাসরি মার্কিন হস্তক্ষেপের ফলে স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর পক্ষ থেকে পাল্টা আঘাত আসার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

এনএন/ ৫ মার্চ ২০২৬



More from আন্তর্জাতিকMore posts in আন্তর্জাতিক »
Mission News Theme by Compete Themes.