Notice: Function _load_textdomain_just_in_time was called incorrectly. Translation loading for the matomo domain was triggered too early. This is usually an indicator for some code in the plugin or theme running too early. Translations should be loaded at the init action or later. Please see Debugging in WordPress for more information. (This message was added in version 6.7.0.) in /home/gbtnews/public_html/wp-includes/functions.php on line 6131
মার্কিন এসইসির সমন গ্রহণ করলো আদানি গ্রুপ, জবাব দিতে হবে ৯০ দিনের মধ্যে – GBTnews Bangla Press "Enter" to skip to content

মার্কিন এসইসির সমন গ্রহণ করলো আদানি গ্রুপ, জবাব দিতে হবে ৯০ দিনের মধ্যে

নয়াদিল্লি, ০১ ফেব্রুয়ারি – অবশেষে মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) আইনি সমন গ্রহণ করেছেন ভারতীয় ধনকুবের গৌতম আদানি ও তার ভাতিজা সাগর আদানি। ২১ জানুয়ারি আইনজীবীদের মাধ্যমে সমন পাঠানোর পর ২৩ জানুয়ারি আদানির মার্কিন আইনজীবীরা সমন গ্রহণে রাজি হন।

মার্কিন আদালতের আদেশ অনুযায়ী, গৌতম ও সাগর আদানির বিরুদ্ধে আনা মামলায় তারা আগামী ৯০ দিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে জবাব দিতে হবে বা মামলাটি খারিজের আবেদন করতে পারবে। আদালত ৩০ জানুয়ারি স্টিপুলেশন (আবশ্যিক শর্ত বা কড়াকড়ি নিয়ম) অনুমোদন করার পর সময় গণনা শুরু হয়েছে।

সমঝোতা চুক্তি অনুযায়ী, ৯০ দিনের মধ্যে অভিযুক্তরা ফেডারেল রুল অব সিভিল প্রসিডিউরের রুল ১২(এ) অনুযায়ী জবাব দিতে পারেন বা রুল ১২(বি) অনুযায়ী অভিযোগ খারিজের আবেদন করতে পারেন। চুক্তিতে বলা হয়েছে, সমন গ্রহণে রাজি হলেও আদানিরা মামলার সব প্রতিরক্ষা অধিকার রাখছেন, বিশেষ করে ব্যক্তিগত এখতিয়ার সংক্রান্ত আপত্তি তোলার অধিকারও বজায় থাকবে। অর্থাৎ, তারা যুক্তি দিতে পারবে যে মার্কিন আদালতের এই মামলায় এখতিয়ার নেই।

স্টিপুলেশনে বলা হয়েছে, যেহেতু অভিযুক্তরা ভারতে অবস্থান করছেন, তাই ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে এসইসি ভারতের আইন মন্ত্রণালয়ের কাছে হেগ কনভেনশন অনুযায়ী নথি প্রেরণের জন্য আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাঠায়। তবে এখনো নথি পাঠানো সম্ভব হয়নি। হেগ কনভেনশন হলো একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি, যা সীমান্ত পেরিয়ে বিচারিক নথি প্রেরণের নিয়ম নির্ধারণ করে। ভারত সরকার এ বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সহযোগিতা করে।

এর আগে, ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে ভারত প্রথমবার এসইসির অনুরোধ ফিরিয়ে দেয় এবং বলে নথিতে প্রয়োজনীয় সিল ও স্বাক্ষর নেই। এসইসি জানায়, হেগ কনভেনশন অনুযায়ী এসব সিল-স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক নয় এবং পূর্বেও ভারতের সঙ্গে নথি বিনিময়ে এসব লাগেনি। পরে ২০২৫ সালের মে মাসে এসইসি আবার বিশদ ব্যাখ্যাসহ অনুরোধ পাঠায়, কিন্তু ভারতীয় মন্ত্রণালয় কয়েক মাস কোনো জবাব দেয়নি। এরপর ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তারা নতুন আপত্তি তোলে—একটি ‘অভ্যন্তরীণ এসইসি বিধি’ বলে দাবি করে যে এই মামলায় হেগ কনভেনশন প্রযোজ্য নয়। এসইসি এটি ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে।

বারবার বাধার কারণে ২১ জানুয়ারি এসইসি আদালতের কাছে আবেদন করে যাতে হেগ কনভেনশন প্রক্রিয়া বাদ দিয়ে ইমেইল বা আদানির যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আইনজীবীদের মাধ্যমে সমন পাঠানোর অনুমতি দেওয়া হয়। দুই দিন পরই ২৩ জানুয়ারি আদানির মার্কিন কৌঁসুলি সমন গ্রহণে রাজি হন। আদালত ৩০ জানুয়ারি তা অনুমোদন করে এবং হেগ কনভেনশনের বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া হয়।

গৌতম ও সাগর আদানির পক্ষে মামলা লড়ছেন যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি শীর্ষ আইন ফার্ম—সালিভান অ্যান্ড ক্রোমওয়েল, নিকসন পিবডি ও হেকার ফিঙ্ক। আদানির পক্ষের আইনজীবীদের একজন রবার্ট জিওফরা জুনিয়র, যিনি সালিভান অ্যান্ড ক্রোমওয়েলের কো-চেয়ার এবং ২০২৪ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষেও লড়েছেন।

এসইসি ২০ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে গৌতম ও সাগর আদানির বিরুদ্ধে নাগরিক প্রতারণার অভিযোগ আনে। অভিযোগে বলা হয়, তারা শত শত মিলিয়ন ডলার ঘুষ দিয়ে ভারতের সরকারি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সোলার এনার্জি প্রকল্পের চুক্তি পেতে পরিকল্পিত কেলেঙ্কারি চালিয়েছিলেন। এই অভিযোগ আসে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরের একটি বন্ড অফারিংকে কেন্দ্র করে, যেখানে আদানি গ্রিন এনার্জি যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ১৭৫ মিলিয়ন ডলারের বেশি তহবিল তোলে। এসইসির অভিযোগ, ওই বন্ড অফারিংয়ে কোম্পানির দুর্নীতি-প্রতিরোধ কার্যক্রমের বিষয়ে মিথ্যা তথ্য দেওয়া হয়েছিল।

ফেডারেল প্রসিকিউটররা একই দিনে সমান্তরালভাবে ফৌজদারি মামলা দায়ের করেন, যেখানে সিকিউরিটিজ প্রতারণার ষড়যন্ত্র, ওয়্যার ফ্রড ষড়যন্ত্রসহ একাধিক অপরাধের অভিযোগ আনা হয়। এই ফৌজদারি মামলা এসইসির দেওয়ানি মামলার বাইরে আলাদাভাবে চলছে।

তবে আদানি গ্রুপ এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং জানিয়েছে, তারা সব ধরনের আইনি প্রতিকার গ্রহণ করবে।

এনএন/ ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬



More from আন্তর্জাতিকMore posts in আন্তর্জাতিক »
Mission News Theme by Compete Themes.