Press "Enter" to skip to content

তেজগাঁও কলেজ সরকারীকরণের দাবিতে অধ্যক্ষকে স্মারকলিপি

ঢাকা: রাজধানীর অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তেজগাঁও কলেজকে সরকারি করার দাবিতে সর্বাত্মক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘদিনের এই আন্দোলন ও প্রত্যাশাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে এবার সরাসরি প্রশাসনিক পর্যায়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের অটল মনোভাব ও গণদাবির পরিপ্রেক্ষিতে কলেজের অধ্যক্ষের মাধ্যমে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের এ উদ্যোগ নেওয়া হয়, যা ক্যাম্পাস জুড়ে নতুন করে উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) মঙ্গলবার সকালে ঢাকার তেজগাঁও কলেজ ক্যাম্পাসে এই স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

বিজ্ঞাপন

তেজগাঁও কলেজ সরকারিকরণ আন্দোলনের ব্যানারে শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধিদল অধ্যক্ষ শামীমা ইয়াসমিনের কার্যালয়ে সরাসরি উপস্থিত হয়ে এই আবেদনপত্র জমা দেন। এই সময় অধ্যক্ষের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক নুর নবী আল মাহমুদ। আন্দোলনের পক্ষে উপস্থিত থেকে প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব দেন শিক্ষার্থী জান্নাতুন নেছা বুশরা, হারুন অর রশিদ, নাজমুল হাসান পাপন এবং রাকিবুল ইসলাম রানা। প্রতিনিধিদলে বিভিন্ন বিভাগের সাধারণ শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়ে একাত্মতা প্রকাশ করেন এবং নিজেদের দাবির যৌক্তিকতা বিস্তারিত তুলে ধরেন।

স্মারকলিপি পেশের পাশাপাশি ক্যাম্পাসে অব্যাহত রয়েছে ব্যাপক গণস্বাক্ষর কর্মসূচি। গত ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ কার্যক্রম সাধারণ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মুখরিত হয়ে উঠেছে। কলেজের সর্বস্তরের বর্তমান শিক্ষার্থীরা স্বপ্রণোদিত হয়ে এই গণস্বাক্ষর অভিযানে নিজেদের সমর্থন নথিবদ্ধ করছেন। শিক্ষা গ্রহণের বিপুল ব্যয়ভার হ্রাস করা, প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনার সার্বিক মান বৃদ্ধি, উন্নত ও আধুনিক আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ, সহজ ও সুবিধাজনক যাতায়াত পরিষেবা এবং মেধাভিত্তিক দক্ষ শিক্ষকমণ্ডলীর তত্ত্বাবধান পাওয়ার লক্ষ্যেই প্রধানত সরকারি মর্যাদার আবেদন জানানো হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের মতে, তেজগাঁও কলেজ সরকারি হলে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সম্ভাবনাময় পথ উন্মোচিত হবে।

আন্দোলনে অংশ নেওয়া অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা জানান, শিক্ষা জীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকলেও তারা চান এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি দ্রুত সরকারি প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি পাক। তারা উল্লেখ করেন যে নিজেদের পাঠ শেষ হতে হয়ত আর অল্প কিছু দিন বাকি, তবে এই অর্জন পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি স্থায়ী উপহার হয়ে থাকবে। আন্দোলনকে আরও বেগবান ও ফলপ্রসূ করতে প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং প্রবীণদের সহযোগিতা চেয়েছে আন্দোলনকারীরা। তারা স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে, এবং প্রয়োজনে আন্দোলনের রূপরেখা আরও বিস্তৃত করা হবে।

সুত্রঃ সারাবাংলা.নেট

More from শিক্ষাMore posts in শিক্ষা »

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Mission News Theme by Compete Themes.