Press "Enter" to skip to content

রামপালে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বরসহ ৯ জনের দাফন সম্পন্ন, এলাকায় শোকের মাতম

বাগেরহাট, ১৩ মার্চ – বাগেরহাটের রামপালে খুলনা মোংলা মহাসড়কে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বর সাব্বির এবং তার পরিবারের ৯ সদস্যের দাফন কাজ সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে মোংলা পৌরসভার সরকারি কবরস্থানে তাদের সমাহিত করা হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো এলাকা জুড়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্বজন এবং প্রতিবেশীদের কান্নায় শেলাবুনিয়া গ্রামের পরিবেশ অত্যন্ত ভারী হয়ে উঠেছে। শেলাবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা ফিরোজ শিকদার জানান যে আব্দুর রাজ্জাকের পাঁচ ছেলে ও এক মেয়ে ছিল। বৃহস্পতিবারের ওই দুর্ঘটনায় তার দুই ছেলে, এক মেয়ে, এক পুত্রবধূ এবং চার নাতি নাতনি প্রাণ হারিয়েছেন।

বর্তমানে তার তিন ছেলে এবং তাদের মা জীবিত আছেন। স্ত্রী, এক ছেলে এবং দুই মেয়েকে হারিয়ে আব্দুর রাজ্জাকের বড় ছেলে আশরাফুল আলম জনি শোকে পাথর হয়ে গেছেন। তিনি কান্নায় ভেঙে পড়ে জানান যে তার সবকিছু শেষ হয়ে গেছে এবং স্ত্রী, সন্তান, ভাই বোন সবাইকে হারিয়ে তিনি একেবারে একা হয়ে পড়েছেন।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন এবং পুলিশ সুপার হাসান চৌধুরী দুর্ঘটনাস্থল ও নিহতদের বাড়ি পরিদর্শন করেছেন। জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন জানিয়েছেন যে নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। তিনি আরও জানান যে জেলা প্রশাসনের ত্রাণ তহবিল, জেলা পরিষদ এবং সড়ক পরিবহন আইনের ৫৪ ধারার আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের নিহত প্রত্যেক সদস্যের জন্য এই আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।

ইতোমধ্যে নিহত মাইক্রোবাস চালক মো. নাঈম শেখের পরিবারকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৫০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে। উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার দুপুরে খুলনার কয়রা উপজেলার নকশা গ্রামে মার্জিয়া আক্তারের সঙ্গে মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের শেলাবুনিয়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে সাব্বিরের বিয়ে সম্পন্ন হয়।

বিয়ের পর বরযাত্রীদের নিয়ে মাইক্রোবাসটি বিকেলে খুলনা মোংলা মহাসড়কের বেলাই ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে নৌবাহিনীর একটি স্টাফ বাসের সঙ্গে এর মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই অনেক মানুষের প্রাণহানি ঘটে।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, তার ছেলে বর আহাদুর রহমান সাব্বির, সাব্বিরের ভাই আব্দুল্লাহ সানি, বোন উম্মে সুমাইয়া ঐশী, ঐশীর ছেলে সামিউল ইসলাম ফাহিম, বড় ভাই আশরাফুল আলম জনির স্ত্রী ফারহানা সিদ্দিকা পুতুল এবং তাদের ছেলে আলিফ, মেয়ে আরফা ও ইরাম।

এছাড়া নিহতদের তালিকায় মাইক্রোবাস চালক মো. নাঈম শেখও রয়েছেন, যার বাড়ি রামপাল উপজেলার জিগির মোল্লা এলাকায়। অন্যদিকে কনের পক্ষের নিহতরা হলেন নববধূ মার্জিয়া আক্তার মিতু, তার ছোট বোন লামিয়া আক্তার, দাদি রাশিদা বেগম এবং নানি আনোয়ারা বেগম। তাদের বাড়ি খুলনার কয়রা উপজেলার নকশা গ্রামে অবস্থিত।

এ এম/ ১৩ মার্চ ২০২৬



More from বাংলাদেশMore posts in বাংলাদেশ »
Mission News Theme by Compete Themes.