
জামালপুর, ৬ মার্চ – জামালপুরে স্ত্রীকে হত্যার পর মরদেহ পুড়িয়ে ফেলার চেষ্টার অভিযোগে হোসেন তাইফুর নামে এক আইনজীবীকে আটক করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে শহরের দড়িপাড়ার মণ্ডলপাড়া এলাকায় এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। পুলিশের ধারণা, দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহের জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।
নিহত গৃহবধূর নাম তাহমিনা আক্তার তানিয়া (৩৬)। তিনি শহরের মুকুন্দবাড়ী এলাকার আবু তাহেরের মেয়ে। আটককৃত স্বামী হোসাইন মো. তাইফুর রহমান (৪০) দড়িপাড়া মণ্ডলপাড়া এলাকার মৃত নজরুল ইসলামের ছেলে। এই দম্পতির সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
নিহতের স্বজন ও স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, প্রায় ১৫ বছর আগে তাহমিনা ও তাইফুরের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। বৃহস্পতিবার রাতে ঝগড়ার একপর্যায়ে তাইফুর ধারালো অস্ত্র ও ভারি বস্তু দিয়ে আঘাত করে তাহমিনাকে হত্যা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এরপর ঘটনা ধামাচাপা দিতে মরদেহ বিছানায় রেখে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। আগুনের ধোঁয়া ও পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে প্রতিবেশীরা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। পরে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা এসে আগুন নেভান এবং পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহতের মামা মনোয়ার হোসেন কর্নেল জানান, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাবার বাড়ি থেকে স্বামীর বাড়িতে ফিরেছিলেন তানিয়া। এরপর মধ্যরাতে খবর আসে তাকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। তিনি এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
এ বিষয়ে জামালপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ইয়াহিয়া আল মামুন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পারিবারিক কলহের কারণেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। অভিযুক্ত স্বামীকে আটক করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এনএন/ ৬ মার্চ ২০২৬









