Press "Enter" to skip to content

অন্তর্বর্তী সরকারের বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো উপদেষ্টা পরিষদের বাইরে: এম সাখাওয়াত

ঢাকা, ১ মার্চ – সদ্য সমাপ্ত অন্তর্বর্তী সরকারের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের কর্মপদ্ধতি নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন সাবেক উপদেষ্টা ও অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম সাখাওয়াত হোসেন। তাঁর মতে, সরকারের বড় সিদ্ধান্তগুলো উপদেষ্টা পরিষদের সভায় আলোচনার মাধ্যমে নয় বরং পরিষদের বাইরে থেকেই নেওয়া হতো।

বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বিদায়ী সরকারের দেড় বছরের কার্যক্রম নিয়ে নানা অজানা কথা জনসমক্ষে এনেছেন।

সাবেক এই নির্বাচন কমিশনার অভিযোগ করেছেন যে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য হওয়া সত্ত্বেও নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে তাঁকে অন্ধকারে রাখা হয়েছিল। নির্বাচন কমিশনে দীর্ঘ সময় কাজের অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও সরকার তাঁর কোনো পরামর্শ নেয়নি বা তাঁকে কনসালট্যান্ট হিসেবে বিবেচনা করেনি বলে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেন। সরকারের ভেতরে একটি প্রভাবশালী মহল বা কিচেন ক্যাবিনেট ছিল বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন সাবেক এই স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।

তিনি জানান যে ২৭ সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদে কোনো বিষয় আলোচনার টেবিলে ওঠার আগেই তা বাইরে নির্ধারিত হয়ে যেত। নির্বাচন পেছানোর সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তাঁর জানা না থাকলেও তিনি একটি বিশেষ পক্ষের সময়ক্ষেপণের ইচ্ছা সম্পর্কে শুনেছিলেন। তবে আঠারো মাসের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন হওয়াকে তিনি ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন।

২০২৪ সালের অগাস্টে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার দায়িত্ব পাওয়ার পর পুলিশের ব্যবহৃত সেভেন পয়েন্ট সিক্স টু বোরের রাইফেল এবং এর ব্যবহার নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন। সাক্ষাৎকারে তিনি পুনরায় সেই প্রসঙ্গ টেনে বলেন যে পুলিশের এই মারণাস্ত্র সাধারণ মানুষের হাতে কীভাবে পৌঁছাল তা তিনি তদন্ত করতে চেয়েছিলেন। ভিডিও ফুটেজে লুঙ্গি ও গেঞ্জি পরা ব্যক্তিদের হাতে পুলিশের রাইফেল এবং হেলিকপ্টারে থাকা স্নাইপারদের শারীরিক গঠন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে তিনি বলেন যে এরা সম্ভবত বহিরাগত ছিল। কোনো তদন্তের সুযোগ পাওয়ার আগেই মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় তাঁকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র সাত থেকে আট দিনের মাথায় তিনি পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন বলেও জানান। তবে তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অনুরোধে তিনি শেষ পর্যন্ত সরকারে থেকে যান।

উল্লেখ্য যে ২০০৭ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই বিশেষজ্ঞ ২০২৪ সালের অগাস্টে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের সদস্য ছিলেন।

এনএন/ ১ মার্চ ২০২৬



More from বাংলাদেশMore posts in বাংলাদেশ »
Mission News Theme by Compete Themes.