Press "Enter" to skip to content

ইরানি হামলার হুমকির মুখে তুরস্কে মাঝপথে বিমান পরিবর্তন করেছিলেন ট্রাম্প



ওয়াশিংটন, ২৬ জুলাই – চলতি মাসে অনুষ্ঠিত ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে তুরস্কে গিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সফর শেষে দেশে ফেরার সময় আচমকা নিজের নির্ধারিত এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমান পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

নিউইয়র্ক টাইমসের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই নাটকীয় পরিবর্তনের পেছনে থাকা চাঞ্চল্যকর কারণগুলো উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো আকাশপথেই ট্রাম্পের বিমান লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনা করছিল এমন নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই এই জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।

সংশ্লিষ্ট মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে যে ন্যাটো সম্মেলন চলাকালেই এই সুনির্দিষ্ট হুমকির বিষয়টি সিক্রেট সার্ভিসের নজরে আসে। ট্রাম্প তুরস্কের আঙ্কারায় গিয়েছিলেন কাতার থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া একটি বোয়িং ৭৪৭-৮ উড়োজাহাজে চড়ে।

তবে নতুন এই বিমানটিতে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানের মতো অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থা বা অন্যান্য প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ছিল না। হুমকির গুরুত্ব বিবেচনা করে মার্কিন প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা বাহিনী তাকে দ্রুত বিমান বদলানোর পরামর্শ দেয়।

এরপর ট্রাম্প নিজেই ঘোষণা করেন যে তুরস্ক থেকে ফেরার জন্য তিনি তার পুরোনো এবং অধিক সুরক্ষিত এয়ার ফোর্স ওয়ান ব্যবহার করবেন। গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের তথ্যমতে ইরানপন্থী বিভিন্ন প্রক্সি বাহিনীর মূল লক্ষ্য ছিল ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আকাশেই সশরীরে নিশ্চিহ্ন করা।

সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প নিজেও এই হুমকির সত্যতা স্বীকার করে বলেন যে তাকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন হিটলিস্টে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যদিও শুরুতে ট্রাম্প বিমান বদলের কারণ হিসেবে মার্কিন সেনাদের নতুন বিমানটি দেখানোর সুযোগ দেওয়ার কথা বলেছিলেন তবে পরবর্তী সময়ে সিক্রেট সার্ভিসের চাপের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

এই হামলার হুমকির তথ্যটি মার্কিন প্রশাসনের একটি অত্যন্ত গোপনীয় স্তরে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছিল। এমনকি মার্কিন কংগ্রেসের অনেক শীর্ষ সদস্যকেও এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। তবে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ট্রাম্পকে হত্যায় ইরানের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার কথা স্বীকার করেছেন।

এর আগে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে ইরানের প্রভাবশালী জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার পর থেকেই ট্রাম্প ও তার পরিবারের ওপর এ ধরনের হামলার হুমকি অব্যাহত রয়েছে। এদিকে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি জানিয়েছেন যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে নতুন বিমানটিকে সাময়িকভাবে সেবার বাইরে রাখা হবে।

অন্যদিকে সিক্রেট সার্ভিসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে বর্তমানে তাদের সুরক্ষায় থাকা ব্যক্তিদের প্রতি হুমকির মাত্রা ইতিহাসের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ট্রাম্পও জানিয়েছেন যে তার নতুন বিমানটিকে খুব শিগগিরই সর্বোচ্চ আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় সজ্জিত করা হবে।

এস এম/ ২৬ জুলাই ২০২৬



More from আন্তর্জাতিকMore posts in আন্তর্জাতিক »
Mission News Theme by Compete Themes.