
তেহরান, ২ এপ্রিল – ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান সংঘাতের বিষয়ে তাসনিম নিউজ এজেন্সির কৌশলগত গবেষণা কেন্দ্র একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ৮০টি থিঙ্ক ট্যাংকের গত এক মাসের তথ্য বিশ্লেষণের ভিত্তিতে তৈরি এই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক লক্ষ্য অর্জনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়েছে। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, পশ্চিমা জোট সামরিক সরঞ্জামের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব কাজে লাগিয়ে কিছু নির্দিষ্ট স্থানে আঘাত হানতে সক্ষম হলেও কৌশলগত দিক থেকে তারা পরাজয়ের মুখে পড়েছে।
বিশেষ করে ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থার পতন ঘটানো অথবা দেশটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতা সম্পূর্ণ ধ্বংস করার যে মূল উদ্দেশ্য তাদের ছিল, তা অর্জনে আক্রমণকারীরা সফল হতে পারেনি। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ইরান অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে একটি অসম যুদ্ধ পরিচালনা করে পুরো পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখেছে। হরমুজ প্রণালি নিজেদের দখলে রাখা এবং সেখানে পশ্চিমা জোটের সামরিক ব্যর্থতা যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত ও সামরিক মর্যাদাকে বড় ধরনের হুমকির মুখে ফেলেছে। থিঙ্ক ট্যাংকগুলোর মতে, এই সংঘাত বর্তমানে একটি দীর্ঘমেয়াদী ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধে রূপ নিয়েছে।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ইরান এই যুদ্ধে ক্রমশ সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছে যাচ্ছে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, বর্তমান পরিস্থিতি থেকে সম্মানজনকভাবে বেরিয়ে আসার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সামনে মাত্র দুটি বিকল্প রয়েছে। হয় তারা একটি কৃত্রিম প্রচারণামূলক বিজয় সাজিয়ে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সরে দাঁড়াবে, অথবা কোনো পূর্বশর্ত ছাড়াই অবিলম্বে এই সংঘাতের সমাপ্তি ঘোষণা করবে।
এই গবেষণায় ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশন, চ্যাথাম হাউস, র্যান্ড কর্পোরেশন এবং ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের মতো যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও এশিয়ার প্রভাবশালী গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য যাচাই করা হয়েছে। তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধে পশ্চিমা শক্তিগুলোর একতরফা আধিপত্যের অবসান ঘটেছে এবং ইরান তার কৌশলগত অবস্থান কাজে লাগিয়ে যুদ্ধের গতিপথ পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছে।
এস এম/ ২ এপ্রিল ২০২৬










