Notice: Function _load_textdomain_just_in_time was called incorrectly. Translation loading for the matomo domain was triggered too early. This is usually an indicator for some code in the plugin or theme running too early. Translations should be loaded at the init action or later. Please see Debugging in WordPress for more information. (This message was added in version 6.7.0.) in /home/gbtnews/public_html/wp-includes/functions.php on line 6131
ইরাকে ইতালীয় ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা: সেনা প্রত্যাহার শুরু করল রোম – GBTnews Bangla Press "Enter" to skip to content

ইরাকে ইতালীয় ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা: সেনা প্রত্যাহার শুরু করল রোম

মধ্যপ্রাচ্য, ১৪ মার্চ – মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন মিত্রদের ওপর ইরানের ধারাবাহিক আক্রমণ অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি ইরাকি কুর্দিস্তানের এরবিলে অবস্থিত ক্যাম্প সিঙ্গারা বিমানঘাঁটিতে রাতভর ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। এই ঘাঁটিতে ন্যাটোর প্রায় ৩০০ সেনা অবস্থান করছিলেন।

হামলার পর ইরাক থেকে নিজেদের সেনা প্রত্যাহার শুরু করেছে ইতালি। হামলায় একটি রেস্তোরাঁ এবং দুটি যানবাহন পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে। তবে কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। এই অঞ্চলে ইরানের আক্রমণ তীব্র আকার ধারণ করায় ইতিমধ্যে ইতালির প্রায় ১০০ সেনাকে রোমে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে কুর্দি সেনাদের বিদ্রোহের আশঙ্কায় সরকার কুর্দিস্তান অঞ্চলে বোমাবর্ষণ করেছে।

জানা গেছে সংঘাতের প্রাথমিক দিনগুলোতে ইরাকি কুর্দিরা তেহরানে স্থলভাগ থেকে আক্রমণ শুরু করেছিল যদিও পরবর্তীতে কুর্দি নেতারা এই দাবি অস্বীকার করেন। ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইডো ক্রোসেটোর মতে ক্যাম্প সিঙ্গারায় চালানো এই আক্রমণটি সম্পূর্ণ ইচ্ছাকৃত ছিল।

কারণ সেখানে অবস্থানরত ইতালীয় সেনারা কুর্দি পেশমার্গা বাহিনীকে সামরিক প্রশিক্ষণ দিচ্ছিলেন। মার্কিন নেতৃত্বাধীন আইসিস বিরোধী জোটের অংশ হিসেবেই ইতালীয় বাহিনী সেখানে অবস্থান করছিল। এই হামলা ইচ্ছাকৃত কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে গুইডো ক্রোসেটো ইতিবাচক উত্তর দেন। তিনি উল্লেখ করেন এটি অপারেশন ইনহেরেন্ট রেজলভের আওতাধীন একটি ন্যাটো ঘাঁটি এবং একইসঙ্গে একটি আমেরিকান ঘাঁটিও।

হামলার জন্য সরাসরি কাউকে দায়ী না করলেও তিনি জানান ঘটনাস্থলে থাকা ১৪১ জন ইতালীয় সেনা নিজেদের দেশে ফিরে আসবেন। তিনি আরও জানান ইতিমধ্যে ওই মিশন থেকে ১০২ জনকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে এবং প্রায় ৪০ জনকে জর্দানে স্থানান্তর করা হয়েছে। ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি বলেছেন ড্রোনটি ঠিক কোথা থেকে এসেছে তা এখনো স্পষ্ট নয়।

তবে এটি ইরাকে অবস্থিত ইরানপন্থী মিলিশিয়াদের কাজ হতে পারে বলে তিনি ধারণা করছেন। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি নিজ দেশের সেনাদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে বলেছেন হামলার পরেও তারা অক্ষত আছেন। ঘাঁটির কমান্ডার কর্নেল স্টেফানো পিজোত্তি নিশ্চিত করেছেন সামরিক কর্মীদের সম্ভাব্য বিমান হামলা সম্পর্কে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল এবং তারা হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে বাংকারে নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছিলেন। পিজোত্তি জানান তারা এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য সর্বদা প্রস্তুত এবং প্রশিক্ষিত।

কর্মীদের নিরাপত্তা তাদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাচ্ছে এবং বর্তমানে বিমান হামলার সতর্কতা তুলে নেওয়া হয়েছে। এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে কুর্দিস্তান অঞ্চলের প্রেসিডেন্সি জানিয়েছে ইরাকি সরকারকে অবশ্যই কূটনৈতিক দূত এবং জোট বাহিনীকে রক্ষা করার দায়িত্ব পালন করতে হবে।

অবৈধ কোনো গোষ্ঠীকে আর দেশের নিরাপত্তা ও স্বার্থ বিপন্ন করতে দেওয়া উচিত নয়। এর আগে প্রধানমন্ত্রী মেলোনি স্পষ্ট করেছিলেন যে ইরানের চলমান যুদ্ধে ইতালির সরাসরি যোগদানের কোনো ইচ্ছা নেই। ডোনাল্ড ট্রাম্পের মিত্র হওয়া সত্ত্বেও তিনি যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইনের বাইরে গিয়ে কাজ করার অভিযোগ এনেছেন।

এদিকে ইতালি উপসাগরীয় দেশগুলোকে বিমান প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে এবং নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করতে চলতি সপ্তাহের শুরুতে একটি ইতালীয় যুদ্ধজাহাজ সাইপ্রাসে পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও জানা গেছে হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিজেদের জাহাজগুলো নিরাপদে চলাচলের উদ্দেশ্যে ইতালি ও ফ্রান্স ইতিমধ্যে ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে।

এ এম/ ১৪ মার্চ ২০২৬



More from আন্তর্জাতিকMore posts in আন্তর্জাতিক »
Mission News Theme by Compete Themes.