Press "Enter" to skip to content

আন্তর্জাতিক আইন মানার প্রয়োজন অনুভব করছেন না ট্রাম্প

ওয়াশিংটন, ০৯ জানুয়ারি – ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে জোরপূর্বক আটক করার ঘটনার পর আন্তর্জাতিক আইন নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বৈদেশিক নীতির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইন মানার প্রয়োজন তিনি অনুভব করেন না। খবর আলজাজিরার।

ট্রাম্প বলেন, তার সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ড পরিচালিত হবে কেবল তার ‘নিজস্ব নৈতিকতা’ দ্বারা। আন্তর্জাতিক আইন মানা বা না মানা তার নিজের সংজ্ঞার ওপর নির্ভর করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমার আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োজন নেই। আমি মানুষের ক্ষতি করতে চাই না।”

এর আগে শনিবার ভোরে ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্র। রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। অভিযানের একপর্যায়ে মার্কিন সেনারা প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে দেশটির বাইরে নিয়ে যায়। সমালোচকদের মতে, এ পদক্ষেপ জাতিসংঘ সনদের সরাসরি লঙ্ঘন, যেখানে কোনো রাষ্ট্রের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

হামলার পর ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নেবে এবং দেশটির বিপুল তেলসম্পদ কাজে লাগাবে। যদিও হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, তারা অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে কাজ করবে, তবে একই সঙ্গে ভেনেজুয়েলার নীতিনির্ধারণে প্রভাব রাখবে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে।

ট্রাম্প আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মার্কিন নির্দেশনা মানা না হলে দ্বিতীয় দফা সামরিক হামলা চালানো হতে পারে। শুধু ভেনেজুয়েলা নয়, কলম্বিয়ার বামপন্থী প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর বিরুদ্ধেও সম্ভাব্য হামলার ইঙ্গিত দেন তিনি। পাশাপাশি ডেনমার্কের অধীন গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের প্রচেষ্টাও জোরদার করেছেন ট্রাম্প।

এর আগে জুন মাসে ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের যুদ্ধে যুক্ত হয়ে দেশটির তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি।

ট্রাম্প প্রশাসনের এই অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। জাতিসংঘের বিচারক ও আইনজীবীদের স্বাধীনতা বিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক মার্গারেট স্যাটারথওয়েট সতর্ক করে বলেন, আন্তর্জাতিক আইন উপেক্ষা করা বিশ্বকে আবার ‘সাম্রাজ্যবাদের যুগে’ ফিরিয়ে নিতে পারে এবং এতে অন্যান্য শক্তিধর রাষ্ট্রও আগ্রাসী পথে হাঁটতে উৎসাহিত হবে।

এনএন/ ০৯ জানুয়ারি ২০২৬



More from আন্তর্জাতিকMore posts in আন্তর্জাতিক »
Mission News Theme by Compete Themes.