যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলি, যাদের নির্মিত অ্যাপগুলি লক্ষ লক্ষ মানুষ ব্যবহার করেন, তাদের কার্যকলাপ বিশেষভাবে খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, এবং সেগুলি নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণের চিন্তাভাবনাও করা হচ্ছে। এ বিষয়ে ভিওএর সংবাদদাতা মিশেল কুইন তার এক প্রতিবেদনে জানাচ্ছেন যে, জানুয়ারী মাসে ওয়াশিংটনে ডিসিতে অবস্থিত ক্যাপিটল হিল ভবনে আক্রমণ হওয়ার পরে যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলির ক্ষমতা ক্ষমতার পরিধি নিয়ে বিশ্লেষণ করে দেখার জন্য নতুন করে ভাবনা চিন্তা করা হচ্ছে।
প্রতিবাদকারীরা এই আক্রমণের পরিকল্পনা করার জন্য বহুল পরিমাণে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করেছিলেন বলে জানা গেছে। ফেসবুক এবং টুইটার সাইটগুলি প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং আরও অনেকের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছে। গুগল, অ্যাপল এবং অ্যামাজন ট্রাম্প সমর্থকদের দ্বারা ব্যবহৃত অ্যাপ্ ‘পার্লার’ তাদের স্টোর থেকে সরিয়ে দিয়েছে, এই অ্যাপ্লিকেশনটি সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সহিংসতাকে উস্কানি দিয়েছিল।
মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্টের অধ্যাপক জেরি ডেভিস বলেন, “প্রযুক্তি সংস্থাগুলির ব্যবহারকারীদের সুরক্ষার জন্য এমন একটা ব্যবস্থা থাকবে, মনে হবে যেন একজন দ্বাররক্ষী রয়েছে যিনি একজন মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছেন, এবং তার মধ্য দিয়ে সবাইকে যেতে হবে, যাতে করে অনলাইনে ভুল তথ্য, কোনরকম ঘৃণ্য বক্তব্য দেওয়া, অথবা কাউকে অত্যধিক হয়রানি করা এগুলিকে বন্ধ করা যায়। এবং আমরা সত্যিই এটি ঘটছে, সেটা দেখতে চাই।”
তথাকথিত বিগ টেক অর্থাৎ বড় বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলির কাজকর্ম পুঙ্খানুপুঙ্খরুপে তদন্ত করার ব্যাপারটা নতুন কোনও ঘটনা নয়। গুগল, ফেসবুক এবং আমাজনের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে অনেক বিশ্বাসভঙ্গের মামলা অতীতে রুজু করা হয়েছে, এবং এই সংস্থার কর্মকর্তারা অনেক তদন্তের মুখোমুখি হয়েছেন।এই সব প্রযুক্তি সংস্থাগুলির সিইও বা প্রধান কার্যনির্বাহী কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের সামনে সাক্ষ্য দিচ্ছেন।
যদিও অনেকে একমত যে, প্রযুক্তি সংস্থাগুলির অনেক ক্ষমতা, তবে এ সম্পর্কে কী করা উচিত তা নিয়ে তারা ভিন্নমত পোষণ করছেন। এই সংস্থাগুলিকে কি ভেঙে দেওয়া হবে? ব্যবহারকারীদের তথ্য সংগ্রহ করার জন্য এই সব প্রযুক্তি সংস্থাগুলির ক্ষমতাকে সীমাবদ্ধ করতে হবে এবং যদি ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা লঙ্ঘন করা হয় তবে সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে কি মামলা করার অনুমতি দেওয়া হবে? অনলাইনে মিথ্যাচার করার জন্য এই সংস্থাগুলিকে ব্যাবহার করলে, তাদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ করে কি কোন ব্যবস্থা নেওয়া যাবে? ইলেকট্রনিক ফ্রন্টিয়ার ফাউন্ডেশন ফেডারেল বিষয়ক পরিচালক ইন্ডিয়া ম্যাককিনি বলেন,”আপনি কীভাবে এমন একটি আইন প্রণয়ণ করবেন যার সাহায্যে অবৈধ, এবং ভুল তথ্য দেওয়া যাবে না, কিন্তু একই সঙ্গে ব্যঙ্গ কিংবা বিদ্রূপ, অথবা কৌতুকজনিত মন্তব্যগুলিকে কিন্তু সুরক্ষা দেবে, কারণ এগুলিকে আমরা আমরা বিনোদনের জন্য ব্যবহার করে থাকি এবং এটি রাজনৈতিক আলোচনা এবং আরও অন্যান্য বিতর্কে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হিসেবে কাজ করে।”
কিছু পর্যবেক্ষকদের মতে, যা দরকার তা হ’ল, এই বড় বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলির সন্বদ্ধে নতুন ভাবনাচিন্তা করা, প্রযুক্তি কীভাবে মানুষকে সংঘবদ্ধ করে অথবা বিভাজন করে সেটা খতিয়ে দেখা। ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের সেন্টার ফর টেকনোলজি ইনোভেশনের সিনিয়র ফেলো এবং ডিরেক্টর নিকল টার্নার লি বলেন, “আমি মনে করি এটি সম্পর্কে একটি জাতীয় স্তরে কথোপকথন দরকার। যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলি কী কী নিয়ম মেনে চলবে, অনলাইনে সবাই কিভাবে আচরণ করবে, মানে তাদের তথ্যগুলি কিভাবে পোস্ট করবে যাতে যাতে অন্যান্য সব মানুষেরা সুরক্ষিত থাকে। এটি যদি করা যায়, তবে তা হবে সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ।”
আগামী কয়েক মাস ধরে, সারা বিশ্ব জুড়ে বিভিন্ন দেশের সরকার এবং যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলির দ্বারা নির্মিত বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহারকারীরা, সমাজের মানুষের সুরক্ষায় প্রযুক্তির ভূমিকা নিয়ে তর্ক-বিতর্ক করতেই থাকবে।








