Notice: Function _load_textdomain_just_in_time was called incorrectly. Translation loading for the matomo domain was triggered too early. This is usually an indicator for some code in the plugin or theme running too early. Translations should be loaded at the init action or later. Please see Debugging in WordPress for more information. (This message was added in version 6.7.0.) in /home/gbtnews/public_html/wp-includes/functions.php on line 6131
সালথায় সহিংসতা: গ্রেপ্তার আতঙ্কে ‘পুরুষশূন্য’ ৭০ গ্রাম – GBTnews Bangla Press "Enter" to skip to content

সালথায় সহিংসতা: গ্রেপ্তার আতঙ্কে ‘পুরুষশূন্য’ ৭০ গ্রাম

ফরিদপুর, ১১ এপ্রিল – ফরিদপুরের সালথায় তাণ্ডবের ঘটনায় মামলা দায়েরের পর গ্রেপ্তার আতঙ্কে উপজেলার অন্তত ৭০ গ্রাম এখন ‘পুরুষশূন্য’। ঘটনায় জড়িত অনেকেই আত্মগোপনে চলে গেছেন। জড়িত নন এমন অনেকে হয়রানির ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার ১০৭ গ্রামের মধ্যে ৭০ গ্রাম ‘পুরুষশূন্য’ হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়ন, সোনাপুর ইউনিয়ন, ভাওয়াল ইউনিয়ন ও গট্টি ইউনিয়নের বেশিরভাগ গ্রাম ‘পুরুষশূন্য’। পুরুষ মানুষ না থাকায় মাঠে থাকা হাজার হাজার হেক্টর জমির ফসল ঘরে তোলা সম্ভব হচ্ছে না। মাঠেই ফসলগুলো নষ্ট হতে শুরু করেছে।

জানা গেছে, সহিংসতার ঘটনায় এখন পর্যন্ত মামলা হয়েছে পাঁচটি। এসব মামলায় ২৬১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা তিন থেকে হাজার হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে।

রবিবার সকালে সালথা বাজারে গিয়ে দেখা যায়, সাপ্তাহিক হাটের দিন হওয়ায় বিভিন্ন গ্রামের নারীরা পেঁয়াজ, পাটসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস বিক্রি করছেন। আবার কেউ কেউ বাজার করতে এসেছেন।

আরও পড়ুন : সালথায় সহিংসতায় ক্ষয়ক্ষতি তিন কোটি টাকা

পেঁয়াজ বিক্রি করতে আসা সালমা বেগম বলেন, বাড়িতে কোনো পুরুষ সদস্য নেই। ওই ঘটনার পর থেকেই ভয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে সবাই। তাই বাড়িতে পেঁয়াজ ছিল সেগুলো বিক্রি করতে এসেছি। বিক্রি করে যে টাকা পাব, তাই দিয়ে বাজার-সদাই করব, আর কিস্তি দেব।

উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, নারী ও শিশু ছাড়া কেউ বাড়ি নেই। এ সময় নারী ও শিশুদের চোখে-মুখে ভয়ের ছাপ দেখা গেছে। তারা বাইরের মানুষ দেখলেই ভয়ে দৌড়ে পালাচ্ছেন। ফসলী মাঠেও দেখা মেলেনি কোনো কৃষকের।

যেখান থেকে ঘটনা শুরু সেই ফুকরা বাজারে গিয়ে দেখা যায়, সবগুলো দোকান বন্ধ।

স্থানীয় হাসি বেগম জানান, সবসময় ভয়ে আছি। কোন সময় পুলিশ আসে এই আতঙ্কে সারাদিন কেটে যায়। বাড়িতে কোনো পুরুষ নেই। সবাই গ্রেপ্তারের ভয়ে পালিয়ে রয়েছে।

মিলি আক্তার নামে এক গৃহবধূ জানান, ভয়ে বাড়ির সবাই পলাতক। বাড়িতে রয়েছি আমি ও শিশু সন্তানরা। বাড়িতে বাজার সদাই নেই, কোনো পুরুষ নেই যে তাকে দিয়ে বাজার সদাই করাবো। ঘরে যা ছিল তা দিয়েই কোনোরকমে চলছি।

মারুফা নামে আরেক গৃহবধূ জানান, ক্ষেতের ফসল ওঠানোর সময় এখন। পুরুষ বাড়িতে না থাকায় মাঠের ফসল ঘরে তুলতে পারছি না। এই ফসল বিক্রি করেই সারা বছরের সংসার খরচ চলে। এখন কী করব ভেবে পাচ্ছি না।

শৌলডুবি গ্রামের মালেকা বেগম বলেন, ভয়ে আমার স্বামী বাড়ি থাকেন না। ছেলেকে আগেই বাইরে পাঠিয়ে দিয়েছি। জমিতে ফসল রয়েছে, সেগুলো কেটে ঘরে তুলতে হবে, কিন্তু পারছি না।

ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জামাল পাশা বলেন, সালথার ঘটনায় এ পর্যন্ত মোট ৬১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে মিরান মোল্লা (৩৫) নামে একজন ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ ছাড়া দু’জন গুলিবিদ্ধ হয়ে গ্রেপ্তার রয়েছেন। তাঁদের পুলিশি পাহারায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

জামাল পাশা বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে এ পর্যন্ত আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে ৫৮ জনকে। এর মধ্যে ৪৮ জনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছে। তাদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. আলিমুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, যারা এ ঘটনায় জড়িত নয়, তাদের আতঙ্কিত হয়ে বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার কোনো কারণ নেই। পুলিশ কাউকে হয়রানি করছে না। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার বলেন, কোনো সহিংস ঘটনা ঘটলে কয়েক দিনের জন্য বিভিন্ন গ্রামে এ জাতীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

তিনি বলেন, দ্রুতই এ অবস্থা কেটে যাবে।

সোমবার (৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় করোনা মোকাবিলায় কঠোর বিধিনিষেধ কার্যকর করতে দুই আনসার সদস্য ও ব্যক্তিগত সহকারীকে নিয়ে সালথা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মারুফা সুলতানা খান হিরামণি ফুকরা বাজারে যান। সেখানে তিনি যাওয়ার পর মানুষের জটলা সৃষ্টি হয়। এ সময় স্থানীয় একজনকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। এ অবস্থায় তিনি ওই স্থান থেকে ফিরে আসেন এবং সেখানে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল পাঠান। ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে উত্তেজিত জনতা এসআই মিজানুর রহমানের ওপর হামলা চালান। এতে তার মাথা ফেটে যায়।

পরে পুলিশের গুলিতে দুইজন নিহত ও বাহিরদিয়া মাদ্রাসার মাওলানা আকরাম হোসেন এবং জনৈক আরেক মাওলানার গ্রেপ্তারের গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এরপর কয়েক হাজার মানুষ থানা ঘেরাও করে। সেই সঙ্গে উপজেলা পরিষদ, থানা, সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবন, উপজেলা কৃষি অফিস, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, উপজেলা চেয়ারম্যানের বাসভবন ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।

এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়ি ও সহকারী কমিশনারের (ভূমি) গাড়ি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। সালথা উপজেলা সদর এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

পরে সালথা থানা পুলিশের পাশাপাশি ফরিদপুর, বোয়ালমারী, ভাঙ্গা ও নগরকান্দা পুলিশ এবং র‌্যাব ও আনসার সদস্যরা যৌথভাবে ফাঁকা গুলি ও টিয়ারশেল ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আট সদস্যসহ আহত হন ২০ জন। আহতদের মধ্যে জুবায়ের হোসেন (২৫) ও মিরান মোল্যা (৩৫) নামে দুই যুবক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

সূত্র : দেশ রূপান্তর
এন এইচ, ১১ এপ্রিল

More from বাংলাদেশMore posts in বাংলাদেশ »
Mission News Theme by Compete Themes.