Notice: Function _load_textdomain_just_in_time was called incorrectly. Translation loading for the matomo domain was triggered too early. This is usually an indicator for some code in the plugin or theme running too early. Translations should be loaded at the init action or later. Please see Debugging in WordPress for more information. (This message was added in version 6.7.0.) in /home/gbtnews/public_html/wp-includes/functions.php on line 6131
হিলি স্থলবন্দরে আট মাসে রাজস্ব ঘাটতি ২০৩ কোটি টাকা, আমদানিকারকদের অসন্তোষ – GBTnews Bangla Press "Enter" to skip to content

হিলি স্থলবন্দরে আট মাসে রাজস্ব ঘাটতি ২০৩ কোটি টাকা, আমদানিকারকদের অসন্তোষ

দিনাজপুর, ২৫ মার্চ – দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে চলতি ২০২৫ থেকে ২০২৬ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে অর্থাৎ জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রাজস্ব ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০৩ কোটি ২ লাখ টাকা। আমদানিকারকদের অভিযোগ পণ্য আমদানিতে বিভিন্ন জটিলতার কারণেই এই বিশাল অঙ্কের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে তারা এই বন্দর দিয়ে আমদানি এবং রফতানি বাড়াতে প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। হিলি স্থল শুল্ক স্টেশনের তথ্য অনুযায়ী চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা এনবিআর ৫৬ কোটি ২১ লাখ টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে মাত্র ৩৩ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। একইভাবে আগস্ট মাসে ৫৬ কোটি ২১ লাখ টাকার বিপরীতে ৪৪ কোটি ৮৮ লাখ টাকা আদায় হয়।

সেপ্টেম্বর মাসে ৭২ কোটি ৮ লাখ টাকার বিপরীতে ৪৫ কোটি ৪৮ লাখ টাকা এবং অক্টোবর মাসে ৯১ কোটি ৭১ লাখ টাকার বিপরীতে ৫৬ কোটি ৫৯ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে যথাক্রমে ৫৩ কোটি ৯৬ লাখ ও ৭৮ কোটি ২৫ লাখ টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৪২ কোটি ৯৯ লাখ এবং ৪৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এছাড়া জানুয়ারি মাসে ৭১ কোটি ৬৯ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৪৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা এবং ফেব্রুয়ারি মাসে ৯৫ কোটি ৯২ লাখ টাকার বিপরীতে ৫৬ কোটি ৮১ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় করা সম্ভব হয়েছে।

সব মিলিয়ে চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে হিলি স্থলবন্দর থেকে মোট রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৭৬ কোটি ৩ লাখ টাকা। কিন্তু এর বিপরীতে আদায় হয়েছে ৩৭৩ কোটি ১ লাখ টাকা। ফলে এই সময়ে মোট রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে ২০৩ কোটি ২ লাখ টাকা। হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারক দীনেশ পোদ্দার জানান বর্তমানে কাস্টমসের ছাড়পত্র পেতে দীর্ঘ সময় লাগার কারণে অনেক আমদানিকারক এই বন্দর ব্যবহারে আগ্রহ হারাচ্ছেন এবং অন্য বন্দরে চলে যাচ্ছেন। তিনি বলেন এই বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি করলে ছাড়পত্র পেতে অনেক সময় লেগে যায়।

এর ফলে অনেক সময় পণ্যের অর্ডার বাতিল হয়ে যায় এবং বাজারে দাম কমে গিয়ে লোকসানের মুখে পড়তে হয়। অন্যান্য বন্দর দিয়ে দ্রুত পণ্য ছাড় করানো সম্ভব হলেও হিলিতে বাণিজ্যিক বা অন্য যেকোনো পণ্য আসার পর তদন্ত শেষে ছাড়পত্র পেতে সাত থেকে পনেরো দিন পর্যন্ত সময় লেগে যাচ্ছে। এই দীর্ঘসূত্রিতার কারণেই আমদানিকারকরা এই বন্দর বিমুখ হচ্ছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নত করতে এবং রাজস্ব বাড়াতে দ্রুত পণ্য ছাড়ের ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি। হিলি স্থল শুল্ক স্টেশনের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট শাহিনুর ইসলাম জানান এই বন্দর দিয়ে মূলত জিরা আমদানি করা হয় এবং এর থেকেই সবচেয়ে বেশি রাজস্ব আসত। কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরে হিলি বন্দর দিয়ে জিরা আমদানি প্রায় নব্বই শতাংশ কমে গেছে। আমদানিকারকরা এখন সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে বেশি জিরা আমদানি করছেন কারণ সেখানে তারা বাড়তি সুবিধা পাচ্ছেন।

এক গাড়ি জিরা থেকে আগে প্রায় পঞ্চাশ লাখ টাকা রাজস্ব আসত যা বর্তমানে কমে যাওয়ায় হিলির সার্বিক রাজস্বে বড় প্রভাব পড়েছে। তিনি অভিযোগ করেন সোনামসজিদ বন্দরে নিয়মের বাইরে গিয়ে দেড় থেকে তিন টন পর্যন্ত ওজনে ছাড় দেওয়া হচ্ছে যা আমদানিকারকদের ওই বন্দরের দিকে আকৃষ্ট করছে। সার্বিক বিষয়ে হিলি স্থল শুল্ক স্টেশনের উপকমিশনার সন্তোষ সরেন বলেন কাস্টমসের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্যমাত্রা থাকে না।

ঋণপত্র বা এলসি খোলা হলে স্বাভাবিকভাবেই আমদানি বাড়বে। এলসি খোলার হার বাড়াতে আমদানিকারক এবং সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। তিনি আরও জানান কাস্টমসের মূল কাজ হলো বাণিজ্য সহজ করা এবং পণ্যের চালান দ্রুত পরীক্ষা করে শুল্কায়ন সম্পন্ন করা। এই প্রক্রিয়া আরও গতিশীল করতে কাস্টমসের পক্ষ থেকে সব ধরনের কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

এ এম/ ২৫ মার্চ ২০২৬



More from বাংলাদেশMore posts in বাংলাদেশ »
Mission News Theme by Compete Themes.