Notice: Function _load_textdomain_just_in_time was called incorrectly. Translation loading for the matomo domain was triggered too early. This is usually an indicator for some code in the plugin or theme running too early. Translations should be loaded at the init action or later. Please see Debugging in WordPress for more information. (This message was added in version 6.7.0.) in /home/gbtnews/public_html/wp-includes/functions.php on line 6131
গুরুতর অপরাধে দণ্ডিত বিদেশিদের বাধ্যতামূলক বহিষ্কার করবে ডেনমার্ক – GBTnews Bangla Press "Enter" to skip to content

গুরুতর অপরাধে দণ্ডিত বিদেশিদের বাধ্যতামূলক বহিষ্কার করবে ডেনমার্ক

কোপেনহেগেন, ৩১ জানুয়ারি – ইউরোপের অন্যতম নিরাপদ দেশ হিসেবে পরিচিত ডেনমার্ক তাদের অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের কড়া পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) ডেনিশ সরকার জানায়, এখন থেকে দেশটিতে বসবাসরত কোনো বিদেশি নাগরিক যদি গুরুতর অপরাধে জড়িয়ে এক বছর বা তার বেশি সময়ের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন, তাহলে তাকে বাধ্যতামূলকভাবে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে।

ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন এক সংবাদ সম্মেলনে কঠোর ভাষায় এই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, অপরাধীদের রক্ষা করার চেয়ে দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন ডেনমার্কের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। এ তথ্য জানিয়েছে আরব নিউজ।

ডেনমার্কের অভিবাসন মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গুরুতর মারধর, যৌন নিপীড়ন বা ধর্ষণের মতো অপরাধে জড়িত অ-ডেনিশ নাগরিকদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। বর্তমানে পারিবারিক অধিকার ও আন্তর্জাতিক কনভেনশনের কারণে অনেক সময় অপরাধীদের বহিষ্কার করা সম্ভব হতো না। তবে এখন ডেনমার্ক ব্রিটেনসহ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশের সঙ্গে মিলে ‘ইউরোপীয় মানবাধিকার কনভেনশন’ সংস্কারের জোরালো দাবি তুলেছে।

প্রধানমন্ত্রী ফ্রেডেরিকসেন বলেন, এসব আন্তর্জাতিক আইন তৈরি হওয়ার সময় কেউ ভাবেনি যে মধ্যপ্রাচ্য থেকে পালিয়ে বিশ্বের সেরা একটি দেশে এসে কেউ নারী ও শিশুদের ধর্ষণের মতো অপরাধে জড়াবে। তিনি বলেন, দুঃখজনক হলেও অনেক ক্ষেত্রে আশ্রয়প্রাপ্ত ব্যক্তিরাই এখন অপরাধী হয়ে উঠছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এক বছর বা তার বেশি সাজাপ্রাপ্ত বিদেশি নাগরিকদের প্রায় ৭০ শতাংশকে দেশ থেকে বহিষ্কার করা সম্ভব হচ্ছে। নতুন এই আইনি পরিবর্তনের মাধ্যমে এই হার শতভাগে নিয়ে যেতে চায় ডেনিশ সরকার। পাশাপাশি যারা ডিপার্চার সেন্টার বা দেশত্যাগের কেন্দ্রে অবস্থান করছেন, তাদের ওপর নজরদারি বাড়াতে ইলেকট্রনিক অ্যাঙ্কেল ট্যাগ বা বৈদ্যুতিন বেড়ি ব্যবহারের পরিকল্পনাও করা হয়েছে।

এ ছাড়া ডেনমার্ক সরকার সিরিয়ায় তাদের দূতাবাস আবার চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং আফগানিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে সীমিত পর্যায়ে যোগাযোগ ও সহযোগিতার ইঙ্গিত দিয়েছে, যাতে শরণার্থীদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজ হয়।

ডেনমার্কের এই নতুন অভিবাসন নীতি ইউরোপজুড়ে আলোচনা তৈরি করেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের আশঙ্কা প্রকাশ করলেও ডেনিশ সরকার তাদের সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে।

সরকার আবারও জানিয়েছে, শরণার্থীরা ডেনমার্কে স্থায়ী নয়, বরং সাময়িক সময়ের জন্যই আশ্রয় পাবেন। তাদের স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরে যেতে উৎসাহিত করতে আর্থিক প্রণোদনাও বাড়ানো হবে। আগামী ১ মে থেকে এসব নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

এনএন/ ৩১ জানুয়ারি ২০২৬



More from আন্তর্জাতিকMore posts in আন্তর্জাতিক »
Mission News Theme by Compete Themes.